আরও একটি জয় পেল বরিশাল বুলস

227

মালানের দুর্দান্ত অপরাজিত ইনিংস আর শাহরিয়ার নাফীসের সঙ্গে দারুণ জুটিতে আরও একটি জয় পেল বরিশাল বুলস। চিটাগং ভাইকিংসকে হারাল ৭ উইকেটে। চিটাগংয়ের ১৬৩ রান বরিশাল পেরিয় যায় ২ বল বাকি থাকতে।

৭ ছক্কায় ৪৮ বলের অপরাজিত ৭৮ রানের ইনিংসে রান তাড়ার মূল নায়ক ইংলিশ ব্যাটসম্যান মালান। ৬৫ রানের ইনিংসে যথেষ্ট উজ্জ্বল পার্শ্বনায়ক শাহরিয়ারও। দুজনের ১৫০ রানের জুটি সব বিপিএল মিলিয়েই দ্বিতীয় উইকেটের রেকর্ড।

চতুর্থ ম্যাচে শাহরিয়ারের এটি তৃতীয় অর্ধশতক। উঠে গেছেন এবারের আসরের রান তালিকার শীর্ষে (১৮৪)।

চার ম্যাচে তিন জয়ে শীর্ষে উঠে গেছে বরিশালও। খুলনা টাইটানসের সমান ৬ পয়েন্ট থাকলেও রান রেটে এগিয়ে বরিশাল। কাগজে-কলমে অন্যতম সেরা দল হয়েও চার ম্যাচে তিন হারে তলানি থেকে দুইয়ে তামিম ইকবালের চিটাগং।

ব্যাট হাতে তামিম চেষ্টা করেন যথাসাধ্য। তার দারুণ ইনিংস আর জহুরুল ইসলামের সঙ্গে শতরানের উদ্বোধনী জুটি চিটাগংকে এনে দেয় দারুণ ভিত্তি।

আগের ম্যাচে হারের পর দলের ব্যাটসম্যানদের ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন তামিম ইকবাল। এই ম্যাচে দায়িত্বটা তুলে নিলেন নিজের কাঁধেই। ইনিংস শুরু করতে নামেন নতুন সঙ্গী জহুরুলকে নিয়ে। ডোয়াইন স্মিথকে নামিয়ে দেওয়া হয় নীচে। নতুন জুটি চিটাগংকে এনে দেয় টুর্নামেন্টের সেরা শুরু।

শুরুটা করেছিলেন জহুরুল। দ্বিতীয় ওভারে টানা দুটি চার মারেন আল আমিন হোসেনকে। এরপরই আক্রমণের দায়িত্ব নিজের ব্যাটে নিয়ে নেন তামিম। তাইজুল ইসলামকে চার মেরে শুরু। আল আমিনকে এক ওভারে মারে চার-ছক্কা। রায়াদ এমরিটের প্রথম ওভারেই দুই ব্যাটসম্যান মিলে মারেন তিন চার।

টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় অর্ধশতক স্পর্শ করেন তামিম ৩৮ বলে। মাইলফলক ছোঁয়ার পর সেই এমরিটের ওপর ঝড় চালান আরও। চার বলের মধ্যে মারেন দুটি চার, একটি ছয়!

বিপিএলে নিজের আগের সেরা ৬৯ ছাড়িয়ে যান তামিম। সেঞ্চুরিও মনে হচ্ছিলো খুবই সম্ভব। কিন্তু ৭৫ রানে বোল্ড হয়ে যান কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে। ৫১ বলের ইনিংসে ছিল ১০টি চার, দুটি ছক্কা।

১১৬ রানের জুটি এবারের টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি। বরিশালের বিপক্ষেই ঢাকার মেহেদী মারুফ ও কুমার সাঙ্গাকারার ৮৮ রানের জুটি ছিল আগের সেরা।

সঙ্গীকে হারানোর পরের ওভারে বিদায় নেন জহুরুলও (৩৪ বলে ৩৬)। তিনে নেমে প্রথম বলে আউট হয়েও বেঁচে যান এনামুল। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলেও আউট দেননি আম্পায়ার। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় পরিষ্কার আউট ছিলেন এনামুল।

এরপরও শেষ দিকে প্রত্যাশা মতো ঝড় তুলতে পারেননি এনামুল ও ডোয়াইন স্মিথ। ১০ বলে এনামুলের রান ছিল ৭। পরে টানা দুই বলে ছয়-চার মেরে পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। শেষ ওভারে একটি ছক্কা মেরেছেন স্মিথও। তবে দুজনের কেউই সেভাবে মেটাতে পারেনি শেষের দাবি।

১৭ বলে ১৭ করে ইনিংসের শেষ বলে আউট হন স্মিথ। ১৯ বলে ২৭ করে অপরাজিত এনামুল। তামিম আউট হওয়ার পরের ৪১ বলে মাত্র ৪৭ রান করতে পারে চিটাগং।

স্কোর যেখানে থাকার কথা ১৮০ রানের আশেপাশে, সেটি থমকে যায় ১৬৩ রানে। ব্যাটিং উইকেটে যেটি খুব কঠিন ছিল না।

বরিশাল যদিও রান তাড়ায় শুরুতেই হারায় জশুয়া কবকে। তিন ম্যাচ ব্যর্থ দিলশান মুনাবিরাকে বসিয়ে এই ম্যাচে বরিশাল এনে ছিল ইংলিশ এই ওপেনারকে। কিন্তু শুভাশীষ রায়কে ক্রস ব্যাটে খেলে কব বোল্ড ৬ রানে।

মালান ও শাহরিয়ার জুটি গড়েছেন সময় নিয়ে। সিঙ্গেল নিয়েছেন, চারের জন্য অপেক্ষা করেছেন বাজে বলের। জুটি থিতু হওয়ার পর হাত খুলেছেন দুজনই।

৮ ওভার শেষেও বরিশালের রান ছিল ৪১। এরপরই গ্রান্ট এলিয়টকে ছক্কা মারেন শাহরিয়ান, স্মিথকে মিড উইকেট গ্যালারিতে ফেলেন মালান। শাহরিয়ারের ব্যাটে চার, আর মালানের ব্যাটে ছক্কা আসতে থাকে নিয়মিত।

এক সময় মনে হচ্ছিল এই দুজনই শেষ করবেন ম্যাচ। তবে হুট করেই একটু থমকে যায় রানের গতি। শাহরিয়ারকে মনে হচ্ছিলো একটু ক্লান্ত। ৩ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩৪ রান। মালানের ওই তিন ছক্কায় মেলে স্বস্তি।

শেষের আগে ওভারে পাকিস্তানি পেসার ইমরান খানের স্লোয়ার স্টাম্পে টেনে আনেন শাহরিয়ার (৫৯ বলে ৬৫)। ভাঙে ১৫০ রানের জুটি। বিপিএলে দ্বিতীয় উইকেটে আগের সেরা জুটি ছিল ২০১৩ আসলে রংপুর রাইডার্সের হয়ে ইমরুল কায়েস ও শামসুর রহমানের ১৪৫।

ইমরান পরের বলে ফিরিয়ে দেন থিসারা পেরেরাকেও। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল সাত। শুভাশীষ রায়ের দ্বিতীয় ও চতুর্থ বলে বাউন্ডারিতে ম্যাচ শেষ করেন মুশফিক। মালানের নামের পাশে তখন ঝলমলে অপরাজিত ৭৮!

পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে জ্বলজ্বল করছে বরিশালের নাম!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

চিটাগং ভাইকিংস: ২০ ওভারে ১৬৩/৩ (তামিম ৭৫, জহুরুল ৩৬, এনামুল ২৭*, স্মিথ ১৭; তাইজুল ০/১৬, আল আমিন ১/৩৫, আবু হায়দার ১/৩১, এমরিট ০/৩১, কব ০/১৪, রাব্বি ১/২১, মালান ০/৮)।

বরিশাল বুলস: ১৯.৪ ওভারে ১৬৭/৩ (কব ৬, মালান , শাহরিয়ার ৬৫, পেরেরা ০, মুশফিক ১০*; রাজ্জাক ০/২২, শুভাশীষ ১/২৪, নবি ০/১৭, এলিয়ট ০/২৯, স্মিথ ০/৪০, ইমরান ২/৩০)।

ফল: বরিশাল ৭ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ডেভিড মালান

LEAVE A REPLY