আর্মি স্টেডিয়ামে তিল ধারণের স্থান নেই

174

ঢাকা শহরে মাটির গান। বাজছে ঢোল, খোল, করতালসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র। ছুটির দিনে সুযোগ পেয়ে মাটির টানে আর্মি স্টেডিয়ামে ছুটেছে শহরের কর্মব্যস্ত, যানজটে নাকাল মানুষগুলো। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, প্রিয় মানুষটির সাথে কিংবা একাই অনেকে চলে এসেছেন ঢাকা ফোক ফেস্টিভ্যালে। আর্মি স্টেডিয়ামে তিল ধারণের স্থান নেই। এরই মধ্যে মঞ্চে চলল শিল্পীদের সুরের জাদুকরী মূর্ছনা।

গতকাল ফোক ফেস্টের দ্বিতীয় দিন ছিল শুক্রবার। তাই ভিড় যে হবে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। ঢাকা আর্মি স্টেডিয়াম থেকে মানুষের লাইন ঠেকে গিয়েছিল বনানীর নৌবাহিনীর সদর দপ্তর পর্যন্ত। তবে আশ্চর্য হওয়ার বিষয়, এই যান্ত্রিক শহরের যান্ত্রিক মানুষগুলো মাটির টান ভুলে যায়নি। মৌলবাদীদের একের পর এক আঘাতে ধ্বংস হয়ে যায়নি সংগীতপ্রেমী বাঙালির মনন। তাই গতকাল শুক্রবার সংগীতপাগল শ্রোতাদের জনসমুদ্রে পরিণত হলো আর্মি স্টেডিয়াম। সুরের মায়াজালে আবিষ্ট মানুষগুলোর উল্লাসধ্বনি এক অন্য মাত্রা এনে দিল লোকসংগীতের এই গ্র্যান্ড আয়োজনে।

অনেকেই এসেছেন ঢাকার বাইরে থেকে। ময়মনসিংহ থেকে আসা রফিকুল ইসলাম বললেন, “আমি মুগ্ধ হলাম। এর চাইতে বেশি কিছু বলার নাই।” ফরিদপুর থেকে এসেছেন আহসান হোসেন। বললেন, “আমার সমস্ত কষ্ট, সমস্ত পরিশ্রম আজ স্বার্থক। বিকেল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে রাত সাড়ে নয়টায় ঢুকতে পেরেছি। আমার কোনো দুঃখ নেই।”

মিরপুর থেকে এসেছেন সামিউল ইসলাম এবং নওশীন আহমেদ দম্পতি। বললেন, “নতুন বিয়ে করেছি। বউকে নিয়ে চলে আসলাম। কী যে আনন্দ হচ্ছে বলে বোঝাতে পারব না।”

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে এভাবেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন দর্শকরা। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবের আজ শেষ দিন। যথারীতি সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হবে দর্শকদের প্রবেশ। অনুষ্ঠান চলবে একটানা রাত ১২টা পর্যন্ত। আজকে দর্শকদের মন মাতাবেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত দুই শিল্পী বারী সিদ্দিকী ও পবন দাস বাউল। বাংলাদেশের সুনীল কর্মকার, ভারতের নুরান সিস্টার্স, যুক্তরাজ্যের সুশীলা রামান এবং স্যাম মিলস।

LEAVE A REPLY