এই ব্যানারের বিএনপি খালেদা জিয়া’র বিএনপি নয়”

1317

গতকাল শনিনার চৌদ্দগ্রাম উপজেলাধীন ৪নং শ্রীপুর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপি’র বিতর্কিত নেতৃবৃন্দ দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন করতে এসে সাজানো পুলিশি হামলার সসম্মুখীন হন।
সরজমিনে খোজ নিয়ে জানা গেছে- উপজেলা বিএনপি’র সিঃ যুগ্ন-আহ্ববায়ক সাজেদুর রহমান মোল্লা হিরন ৪/৫ জন দলীয় কর্মী নিয়ে শনিনার বিকেলে উপজেলা বিএনপি’র সদস্য ও শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আবু তাহের মজুমদারের বাড়িতে যান। নিজ ঘরে বসার পরিবেশ নাই জেনে পাশের বাড়িতে তার উকিল শশুর আব্দুল ওহাব মিয়ার বাড়িতে নিয়ে সবাইকে বসান। কথাবার্তার একর্যায়ে হিরন মোল্লা বলেন “দ্রুত লোকজন ডেকে সম্মেলনের আয়োজন করুন, পুলিশ বেশীক্ষণ অপেক্ষা করবে না”। পুলিশ কেন জানতে চাইলে তাহের মজুমদারকে বলেন আপনি এসব বুঝবেন না। ব্যানার ছাড়া কিভাবে সম্মেলন হবে জানতে চাইলে হিরন মোল্লা তুহিন নামে তার এক কর্মীকে দিয়ে গাড়ি থেকে ব্যানার নিয়ে আসেন।
পুর্বের নির্ধারিত বেনু না থাকায় ওহাব মিয়ার ড্রইং রুমেই তাৎক্ষণিক কাউন্সিলর আয়োজন করা হয়।

কথিত সম্মেলনে উপস্থিত থাকা স্থানীয় বিএনপি কর্মী মনির হোসেন বলেন- গাড়ি ও লোকজন দেখে আমি সেখানে যাই। গিয়ে দেখি ওহাব মিয়ার ঘরে ব্যানার লাগানো হচ্ছে। ব্যানারে বিশেষ অতিথী অনেকের নামই আছে কিন্তু বাস্তবে অনেকেই উপস্থিত ছিলেন না। আবু তাহের মজুমদারের আত্মীয় শাহাদাত ও জাহাঙ্গীর মিয়া ছাড়া ইউনিয়নের নেতাকর্মী কেউ ছিলনা। পরে অতিথীরা সবাই ব্যানারের সামনে দাড়িয়ে ছবি উঠানো অবস্থায় পুলিশ এসে পরে। পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা কালে তুহিন নামে এক ব্যক্তি পানিতে পরে মোবাইল হারিয়ে ফেলে। আবু তাহের মজুমদার পুলিশের সাথে তর্ক করতে গেলে তাকে পুলিশ লাঠিপেটা করে। পরে হিরন মোল্লা এসে পরিস্থিতি সামালদেন। তিনি আবু তাহের মজুমদারকে উপজেলা বিএনপি’র নেতা বলে পরিচয় করিয়ে দিতে গেলে পুলিশের এক কনস্টেবল বলেন আমদেরকে আগে বলবেন না। আমরাতো ওনাকে চিনিনা। তারপর আলাদা গিয়ে পুলিশ ও হিরন মোল্লা কথা বলে। কথা শেষে পুলিশের পিছুপিছু অতিথীরাও চলে যায়। তবে পরিস্থিতি দেখে চোর পুলিশ খেলা বলে মনে হয়েছে।

শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আলী আহাম্মেদ এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন- গত কয়েক দিন আগে ফেসবুকে সিলমোহর সহ দেখলাম “আবু তাহের মজুমদার” উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ন-আহ্ববায়ক। আজ ব্যানারে দেখলাম হিরন মোল্লা সিনিয়র যুগ্ন-আহ্ববায়ক। আমার মনে হয় তারা দলের গঠনতন্ত্র বুঝেন না। একেকদিন এক পদবী ধারন করে বিএনপি’র তৃণমুল কর্মীদের সাথে প্রতারণা করছেন। নিজেদেরকে আলোচনায় আনতে এবং ভিন্ন দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই চোর পুলিশ খেলতেছে আমাদের নেতারা। তারা যত চেষ্টাই করুক মুল স্রোতের বাহিরে গিয়ে কেউ রাজনীতিতে উপায় করতে পারেনা। এই ব্যানারের বিএনপি খালেদা জিয়ার বিএনপি নয়। চৌদ্দগ্রাম বিএনপি’র এখনো এমন করুন অবস্থা হয় নাই যে, কারো ড্রইং রুমে গিয়ে সম্মেলন করতে হবে। এটা রেলপথ মন্ত্রীর ইউনিয়ন তারপরও কিন্তু দেশের এই বিরাজমান পরিস্থিতিতে একজন নেতাকর্মীও আনুষ্ঠানিক ভাবে আওয়ামীলীগে যোগদান করে নাই।

তিনি আরো বলেন- আগামী এক বছরের মধ্যে চৌদ্দগ্রাম বিএনপি’র ঘরে বাহিরে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এটা মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্চেন উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক “কামরুল হুদা”। একদিকে দলের আস্থাভাজন ও ত্যাগী ব্যক্তিদের দিয়ে কেন্দ্র কমিটি ঢেলে সাজাচ্ছেন । পাশাপাশি জনগণকে নির্বাচনমুখী অবস্থানে সম্পৃক্ত করতে নিরলস চেষ্টা করে যাচ্চেন। একই সঙ্গে এলাকায় নির্বাচনী ঢেউ তুলতে মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বত্র সংগঠন ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছেন। বিতর্কিত নেতা কর্মীদের বাদ দিয়ে গণসম্পৃক্ত কর্মীদের দিয়ে ইউনিয়ন কমিটি করার উপর জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু এখনই বিতর্কিত নেতা কর্মীদের এসব বাড়াবাড়ি বন্ধ না করলে জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে এবং আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগের শক্ত প্রার্থীর সাথে কুলিয়ে উঠতে কষ্ট সাধ্য হয়ে পরবে।

LEAVE A REPLY