কাতারে চল্লিশ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মহীন

23

কাতার প্রতিনিধিঃ

করোনাভাইরাস মহামারিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ কাতারে গত দুই মাসের অধিক সময় ধরে বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে অনেক বাংলাদেশি শ্রমিকরা কর্মীহিন হয়ে পড়েছে। কাতারে কর্মরত বাংলাদেশিরা একদিকে যেমন কোম্পানি থেকে ছাটাই হয়েছে আবার অনেকে মজুরি হ্রাসের কবলেও পড়েছেন। ইতিমধ্যে সরকার অর্থায়িত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের বেতনের ৩০% কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার সরকার।

কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর ড মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আগামী ২০২২ বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টকে উদ্দেশ্য করে পুরো কাতার জুড়ে অবকাঠামো নির্মাণ ও সার্বিকভাবে উন্নয়নের লক্ষে বর্তমানে কাতারে অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ শেষের দিকে আছে এবং অনেক প্রকল্প’র কাজ সমাপ্ত হয়েছে। এছাড়া ইতোমধ্যে কাতারের বিভিন্ন অঞ্চলে মহাসড়ক নির্মাণ, আগামী বিশ্বকাপ ফুটবল আসরে অনুষ্ঠিত আট টি স্টেডিয়ামের মধ্যে তিনটি পুরোপুরি প্রস্তুত এছাড়া বাকি পাঁচ টি স্টেডিয়ামের কাজ সমাপ্তের পথে। এছাড়া শপিংমল, শরীরচর্চা কেন্দ্র, বিনোদন পার্ক ইত্যাদি অনেক স্থাপনার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে নির্মাণশিল্প শ্রম বাজার এবং মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপে বর্তমানে অনেক বাংলাদেশি কর্মী বিভিন্ন কোম্পানি থেকেও ছাঁটাই হয়েছে। এছাড়া অনেক কথিত ফ্রী ভিসাধারী আছেন যাদের অধিকাংশের এখন কাজ না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, তাই আমরা ধারণা করছি কাতারে আগামী করোনাকালীন মুহুর্ত শেষে প্রায় চল্লিশ হাজার বাংলাদেশি কর্মী কর্মহীন হবেন।

ড. মুস্তাফিজুর রহমান প্রতিবেদককে আরও বলেন, দূতাবাসের পক্ষ থেকে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে করে বিভিন্ন কোম্পানি থেকে ছাঁটাইকৃত বাংলাদেশি কর্মীগণ যেন তাদের পচন্দ অনুযায়ী অন্য কোম্পানিতে স্পন্সর বা কাফালা পরিবর্তন করার সুযোগ পায়। তবে যারা এই সুযোগ নিতে পারবে না তাদের অধিকাংশ বাংলাদেশে ফিরে যাবেন। তিনি আরও বলেন, এরমধ্যে অনেক কর্মী তারা স্পন্সর বা কাফালা পরিবর্তন ও নতুন কাজ সংগ্রহ করেছে যা আমাদের জন্য আনন্দদায়ক।

কাউন্সিলর আরও বলেন, আমরা কাতারের সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন শপিংমল, তাঁরকা হোটেল, হাসপাতাল, ছোট-বড় সুপার মার্কেট ইত্যাদিতে সেক্টরে পূর্বের চেয়েও নতুনভাবে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়মিত দ্বীপক্ষীয় বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছি। কাতার সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ থেকে টেক্সি ড্রাইভার, দক্ষ নার্স ও মৎস্যজীবি নিয়োগে আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া আগামী বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উপলক্ষে সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ করবে কাতার সরকার।

জনশক্তি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে প্রবাসী আয়ের অর্ধেকের বেশি রেমিট্যান্স আসে। যা বাংলাদেশের সিংহভাগ অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখছে। তার মধ্যে কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত,বাহরাইন, ওমান, ইরাক, লেবানন এসব দেশ অন্যতম। তাই এসকল দেশ থেকে কাউকে যাতে দেশে ফিরে যেতে না হয় সে জন্য কুটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রবাসীরা।

LEAVE A REPLY