কুমিল্লাকে ৩২ রানে পরাজিত করেছে সাকিব আল হাসানের ঢাকা

151

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সামনে টিম টিম করে জ্বলতে থাকা আশার শেষ প্রদীপটিও সম্ভবত নিভে গেল। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এর আজকের প্রথম ম্যাচে মাশরাফির কুমিল্লাকে ৩২ রানে পরাজিত করেছে সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টসে জিতে ১৭০ রান সংগ্রহ করে ঢাকা। ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন সাকিব আল হাসান।

ঢাকার দেওয়া ১৭১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ধীর গতিতে ব্যট চালাতে থাকেন কুমিল্লার দুই ওপেনার। দলীয় ২৪ রানে বিদায় মোহাম্মদ শহীদের বলে সাকিবের হাতে ধরা পড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি ১৯ বল খেলে ২টি বাউন্ডারির সাহায্যে ১৭ রান করেন। এরপর ব্যক্তিগত ৯ রানে বিদায় নেন ইমরুল কায়েস। আবু জায়েদের বলে কুমার সাঙ্গাকারার বিশ্বস্ত হাতে ধরা পড়েন তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে ৩৩ রানের জুটির দেখা পায় কুমিল্লা। কিন্তু দলীয় ৭২ রানে আবারও উইকেট পতন। ডোয়াইন ব্র্যাভোর বলে সানজামুল আলমের হাতে ধরা পড়েন খালিদ। তিনি ৩৩ বলে ৪টি চার এবং ১টি ছক্কার সাহায্যে ৩৮ রান করেন।

এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে কুমিল্লার। ৫ রান করে সেকুজে প্রসন্নর বলে সাঙ্গাকারার হাতে ধরা পড়েন লিটন দাস। লিটন দাসের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। পরিস্থিতি সামল দেওয়া চেষ্টা করতেই আহমদে শেহজাদের (২২) বিদায়। কুমিল্লার পঞ্চম উইকেট পতনের পেছনে সেই বোলার ডোয়াইন ব্র্যাভো এবং ফিল্ডার সানজামুল। তখনই ঢাকার বিজয় কেবলমাত্র সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। ৮ বলে ১০ রান করে ব্র্যাভোর তৃতীয় শিকারে পরিণত হন অধিনায়ক মাশরাফি।

স্কোরবোর্ডে আর ৭ রান যোগ হতেই সাজঘরে ফেরেন রশিদ খান (৩)। ২০ তম ওভারের তৃতীয় বলে ফিরে যান সোহেল তানভীর (১৪)। ফলে ৩২ রানের ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় ঢাকা ডায়নামাইটস। ঢাকার হয়ে ডোয়াইন ব্র্যাভো নেন ৩ উইকেট। একটি করে উইকেট নেন জায়েদ, শহীদ, সাকিব এবং নাসির হোসেন। সব শেষ ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে কুমিল্লার  ১৩৮ রান

এর আগে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের দারুণ ব্যাটিংয়ে ভর করে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে ঢাকা। ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার মেহেদী মারুফ এবং সাঙ্গাকারা মিলে ভালো এগোচ্ছিলেন। দলীয় ৩৮ রানে নাবিল সামাদের বলে উইকেট কিপার লিটন দাসের গ্লাভসবন্দি হয়ে বিদায় নেন মেহেদী মারুফ। তিনি ১৭ বলে ৩টি চার এবং ১টি ছক্কায় করেছেন ২২ রান। এরপর সাঙ্গাকারা সাথে জুটি বাঁধেন অপর লঙ্কান গ্রেট মাহেলা জয়াবর্ধনে। দুজন মিলে দ্বিতীয় উইকেটে ৪৫ রানের জুটি গড়েন। ব্যক্তিগত ৩৩ রানে রশিদ খানের বলে বোল্ড হয়ে যান সাঙ্গাকারা। ২৮ বলের ইনিংসটিতে তিনি ৪টি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন।

সাঙ্গার বিদায়ের পর জয়াবর্ধনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তবে জয়াবর্ধনেকে বেশিক্ষণ সঙ্গী হিসেবে পাননি সাকিব। ২৭ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৩১ রান করে রশিদ খানের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। চতুর্থ উইকেটে ৪৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন অধিনায়ক সাকিব এবং তরুণ মোসাদ্দেক হোসেন। ১৮ বলে ২ চার এবং ১ ছক্কায় ২৫ রান করে সোহেল তানভীরের বলে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

তবে ব্যাট চালিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন সাকিব আল হাসান। তার সঙ্গী হন হার্ডহিটার সেকুজে প্রসন্ন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭০ রান সংগ্রহ করে ঢাকা ডায়নামাইটস। সাকিব ২৫ বলে ৪ বাউন্ডারি এবং ১টি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন। ১ চার এবং ১ ছক্কায় সেকুজে প্রসন্ন করেন ১১ রান।

LEAVE A REPLY