কুমিল্লায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু ২৩ ডিসেম্বর থেকে

42

আগামী ২৩ ডিসেম্বর থেকে কুমিল্লায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই আমরা অবৈধ দখলে থাকা ভূমি ও স্থাপনার বিশাল একটি তালিকা করেছি। তালিকা ধরে ক্রমান্বয়ে অভিযান চলবে। জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটেও তালিকাটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সোমবার জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এ কথা বলেন।

সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চাপ স্বাভাবিকভাবে সামলে নিয়ে তাদেরকে আপ্যায়নের বিষয়ে সন্তোষটি প্রকাশ করে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, যে কোনো অশুদ্ধতার বিরুদ্ধেই আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। দিন-ক্ষণ মেপে নয়; যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান ও মনিটরিং অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।

খাদ্য নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নয়- উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, হোটেল-রেস্তোরাঁ-বেকারিসহ খাবারের প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাড়তি নজর দেয়া হবে। ভেজাল খাবার উৎপদান ও বিপণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। কারণ খাদ্যে ভেজাল থেকেই মরণব্যাধি ক্যান্সার, কিডনী জটিলতাসহ নানা রোগ ছড়াচ্ছে। যে করেই হোক ভেজাল, পঁচা ও বাঁসি খাবার বিক্রি বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, ইদানিং ব্যাকারী পণ্যে দেখা যায়- বিভিন্ন কোম্পানীর মোড়ক প্রায় একইরকম। এটা প্রতারণা। একটি ভালো কোম্পানীর খাবারের প্যাকেট হুবহু তৈরি করে কিছু বাজে কোম্পানী তাদের পণ্য বাজারজাত করছে। এতে করে ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের অনেকেই লেখাপাড়া জানে না। গায়ের প্যাকের গায়ের লেখা নয়; রং দেখে পণ্য কিনে। এর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। প্রত্যেক কোম্পানীকে তাদের পণ্যের ‘প্যাটার্ন রাইট’ দেখাতে হবে। না পারলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা।

এদিকে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, সকলের সার্বিক সহযোগিতায় গেলো কয়েকমাস ধরে কুমিল্লায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। ধারাবাহিকভাবেই কমছে হত্যা, অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনা। গমাসে মামলাও কম হয়েছে কুমিল্লায়।

পুলিশ সুপার জানান, অক্টোবরে কুমিল্লায় খুন হয়েছে ৭টি। আগের মাসে অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে খুন হয়ছিল ৬টি। গেলোমাসে কুমিল্লায় অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ৩টি। আগের মাসেও ছিলো তিনটি। নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৫৪টি। সেপ্টেম্বরে নারী নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিলো ৫২টি। সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে কুমিল্লায় ৯০টি মামলা কম দায়ের হয়েছে। অক্টোবরে সংখ্যাটা ছিলো ৫৪৩। নভেম্বরে কুমিল্লায় মামলা হয়েছে সাড়ে ৪ শ’।

LEAVE A REPLY