কুমিল্লা সহপাঠীদের ছুরিকাঘাতে মোন্তাহিন ইসলাম মিরন নামে অষ্টম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্র নিহত।

28

কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকায় সহপাঠীদের ছুরিকাঘাতে মোন্তাহিন ইসলাম মিরন নামে অষ্টম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। রবিবার শবে বরাতের রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিরন নগরীর মডার্ণ হাইস্কুলের ছাত্র ছিল। সে কুমিল্লা মহানগরীর দক্ষিন দুর্গাপুরের বিষ্ণপুর এলাকার সিঙ্গাপুর প্রবাসী আবুল কালাম আজাদের ছেলে। তারা নগরীর ঝাউতলা পূর্ব বাগিচাগাও এলাকায় ডা. খোরশেদ হোসেনের বাসায় ভাড়া থাকেন।


নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, কিছুদিন আগে মডার্ণ স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে বসা নিয়ে মিরনের সঙ্গে সহপাঠীদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে এ নিয়ে তাকে কয়েকবার হুমকি দেয়া হয়। রবিবার রাতে শবে বরাতের নামাজ পড়তে মিরন বাসার বাইরে গেলে নগরীর ঠাকুরপাড়া রোডের মদিনা মসজিদ এলাকায় তার সহপাঠীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।


মিরনের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মিরনের বন্ধু আবিরের সাথে সপ্তম শ্রেণীতে পড়–য়া পল্টু নামে একজনের বিরোধ ছিলো। শবে বরাতের রাতে পল্টুর বন্ধু আমিন এবং মিরনের বন্ধু আবিরের মধ্যে বাকবিতন্ডা থামাতে মিরন আলিফ টাওয়ারের সামনে যায়।


মিরনের নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনায় ভেঙ্গে পড়েছেন তার মা নুসরাত জাহান। তিনি জানান, আমি আমার বড় দুই ছেলেকে নিজে হাতে প্রস্তুত করে নামাজ পড়তে পাঠাই। আমার এক ছেলে ফিরে আসে কিন্তু মিরন ফিরে আসে না। রাত বারোটায় খবর পাই সে হাসপাতালে আছে। আমি শুধু আমার ছেলের হত্যাকারীর বিচার চাই।

নগরীর কান্দিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল ইসলাম জানান, সহপাঠীদের ছুরিকাঘাতে মারাত্মক আহত হওয়ার পর স্থানীয়রা আহত মিরনকে হাসপাতালে নেয়ার পর গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়।

কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মিরনের পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ছুরিকাঘাতের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের কারনে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY