খুলনাকে হারিয়ে ফাইনালে ঢাকা

161

আরেকটা সুযোগ আছে মাহমুদউল্লাহর দলের। বুধবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে খেলবে খুলনা। এর আগে এলিমিনেটর ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসকে বিদায় করে ড্যারেন স্যামির রাজশাহী।

টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর আন্দ্রে রাসেলের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেটে ১৪০ রান করে ঢাকা। ১৬ ওভার ২ বলে খুলনা গুটিয়ে যায় ৮৬ রানে। মাত্র দুই ব্যাটসম্যান পৌঁছায় দুই অঙ্কে। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার একশ’ রানের নিচে অলআউট হল দলটি।

খুলনা ইনিংসের প্রথম ওভারেই আগ্রাসী চেহারায় দেখা যায় ঢাকার খেলোয়াড়দের। আন্দ্রে ফ্লেচারের বিপক্ষে আবু জায়েদের একটি এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন দলটির খেলোয়াড়রা। সবচেয়ে তেতে উঠতে দেখা গেছে বোলার জায়েদ ও অধিনায়ক সাকিবকে। বোলারকে ঠাণ্ডা করতে হাত ধরে টেনে সরিয়ে নেন রাসেল।

জায়েদের পরের ওভারে ছক্কা-চার হাঁকান ফ্লেচার। পরের ওভারে সাকিবের বলে কুমার সাঙ্গাকারার হাতে জীবন পান এই ক্যারিবিয়ান উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। শেষে ফিরেন সাকিবের বলেই স্টাম্পড হয়ে।

সপ্তম ওভারে খুলনার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহকে জায়েদের ক্যাচে পরিণত করেন রাসেল। সেই ওভারেই হাসানুজ্জামানকে এলবিডব্লিউ করেন এই পেসার। অবশ্য আম্পায়ারের বাজে সিদ্ধান্তে ফিরেন হাসান, রিপ্লেতে দেখা গেছে লেগ স্টাম্প মিস করতো বল।

আরেক ভুল সিদ্ধান্তে ফিরেন বেনি হাওয়েল। সানজামুল ইসলামের বল তার ব্যাটের কানা ছুঁয়ে প্যাডে লাগলে এলবিডব্লিউ দেন আম্পায়ার। দুই ভুল সিদ্ধান্তের ধাক্কা সামলে আর খেলায় ফেরা হয়নি খুলনার।

দলের বিপদ আরও বাড়িয়ে মোসাদ্দেক হোসেনকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন আব্দুল মজিদ। দুই অঙ্কে যেতে পারেননি নিকোলাস পুরানও। ৯ রান করে ফিরেন জায়েদের বলে ডোয়াইন ব্রাভোকে ক্যাচ দিয়ে।

জোড়া আঘাতে শুভাগত হোম চৌধুরী ও মোশাররফ হোসেনকে ফিরিয়ে দেন ব্রাভো। নিজের শেষ ওভারে আরিফুল হককে (১৪) ফেরান রাসেল। বল হাতে দলকে আশা দেখানো জুনায়েদ খানকে ফিরিয়ে ঢাকার জয় নিশ্চিত করেন ব্রাভো।

দলে ফেরা দুই অলরাউন্ডার রাসেল ও ব্রাভো নেন তিনটি করে উইকেট। মোসাদ্দেক, সানজামুল, জায়েদ, সাকিবের উইকেট একটি করে।

এর আগে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ঢাকার। এক ছক্কা হাঁকিয়েই জুনায়েদের বলে পুরানকে ক্যাচ দেন মেহেদী মারুফ।

নিজের পরের ওভারে চার বলের মধ্যে এভিন লুইস ও কুমার সাঙ্গাকারাকে ফিরিয়ে দেন জুনায়েদ।

ফিল্ডিং করার সময় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন শফিউল ইসলাম। তার জায়গায় মাহমুদউল্লাহ বল তুলে দেন ফ্লেচারের হাতে। মূলত উইকেটরক্ষক হলেও মিডিয়াম পেস সঙ্গে লেগ স্পিনটাও পারেন এই ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার। তিনিই লেগ স্পিনে ফিরিয়ে দেন নাসির হোসেন ও সাকিবকে।

শুভাগত হোম চৌধুরীর তালুবন্দি হন নাসির। ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ঢাকার অধিনায়ক। দলের বিপদ আরও বাড়িয়ে রান আউট হয়ে যান মোসাদ্দেক। তবে এর প্রভাব পড়তে দেননি রাসেল। ২৫ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় খেলেন ৪৬ রানের ঝড়ো ইনিংস। ২২ বলে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন ব্রাভো।

দারুণ শেষ ওভারে মাত্র ২ রান দেন জুনায়েদ। শেষ পর্যন্ত ২৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের এই পেসার খুলনার সেরা বোলার। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এর আগে মাত্র একটি ওভার করা ফ্লেচার এবার ৩ ওভারে ২২ রানে নেন ২ উইকেট। আঁটসাঁট বোলিং করেন মোশাররফ। শেষের দিকে মাঠে ফিরে ১ ওভার বল করেন শফিউল।

LEAVE A REPLY