জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ২ সেপ্টেম্বর ঈদ-উল আযহা

91

বাংলাদেশের আকাশে হিজরি সালের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আসছে ২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করা হবে।
আজ বুধবার জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বাদ মাগরিব জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে বৈঠকটি হয়।
এদিকে, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের জিলকদ মাস ৩০ দিন পূর্ণ হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। তাই আসছে ১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আযহা। আর সে হিসেব অনুযায়ী ৩১ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র হজ।
৯ জিলহজ (৩১ আগস্ট) ফজরের নামাজের পর থেকে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হতে থাকবেন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সৌদি সুপ্রিম কোর্ট রাজকীয় ফরমান জারির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে।
১০ জিলহজ্ব (১সেপ্টেম্বর) মুযদালিফায় ফজরের নামাজ আদায় করে সূর্যোদয়ের পর মিনায় পৌঁছে বড় জামারা (বড় শয়তান) কে ৭টি পাথর নিক্ষেপ করবেন। সেখানে থেকে ফিরে পশু কোরবানি দিয়ে মাথা মুন্ডন করে ইহরাম খোলে স্বাভাবিক পোশাক পরে মক্কায় গিয়ে কাবা শরীফ তাওয়াফ করবেন।
আর তার পাশাপাশি ওই দিনই (১ সেপ্টেম্বর) পশ্চিমা দেশগুলোতেও মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহৎ এ উৎসবটি পালন করা হবে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নবী ইব্রাহীমকে (আ.) স্বপ্নে তার সবচে’ প্রিয় বস্তু কোরবানি করার নির্দেশ দেন। এই আদেশ অনুযায়ী ইব্রাহিম (আ.) তার প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করার জন্য প্রস্তুত হলে আল্লাহ তায়ালা তার পরিবর্তে পশু কোরবানির আদেশ দেন। এ ঘটনাকে স্মরণ করেই সারাবিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা প্রতি বছর ঈদুল আযহা পালন করেন।
হিজরি বর্ষপঞ্জি হিসেবে জিলহজ মাসের ১০ তারিখ থেকে শুরু করে ১২ তারিখ পর্যন্ত ৩ দিন ধরে পশু কোরবানি চলে। হিজরি চন্দ্র বছরের গণনা অনুযায়ী ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার মাঝে দুই মাস ১০ দিনের ব্যবধান থাকে। দিনের হিসেবে যা সর্বোচ্চ ৭০ দিন পর্যন্ত হতে পারে।
ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি হলো পবিত্র হজ। আর হজের অন্যতম অংশ হিসেবে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের মহিমা স্মরণ করার প্রথা শুরু থেকেই পালিত হয়ে আসছে। এদিন নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী গরু, উট, ছাগল, ভেড়া কোরবানি দেয়া হয়।
ধনী-গরিব নির্বিশেষে গোটা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান আনন্দঘন পরিবেশে ঈদুল আযহা পালন করেন। এদিন মুসলমানেরা আনন্দ ও হাসিখুশির এক মোহনায় এসে মিলিত হন।
সাধারণত সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে একই দিন ঈদ উদযাপিত হয়। আর তার পরদিন চাঁদ দেখা সাপেক্ষে বাংলাদেশে ঈদ উদযাপন হয়।

LEAVE A REPLY