ঢাকাকে উড়িয়ে রাজশাহীর বড় জয়

154

নিশ্চিত জয়ের ম্যাচটিতে রাজশাহী কিংস অদ্ভুতভাবে খুলনা টাইটানসের কাছে হার মেনেছিল তাদের প্রথম ম্যাচে। এমন হারের পর স্বাভাবিকভাবেই দ্বিতীয় ম্যাচে ফেরাটা কঠিন ছিল তাদের জন্য। আগের হারটার ক্ষোভ  শুক্রবার ঢাকার বিপক্ষে ভালোভাবেই প্রকাশ করল রাজশাহী।
এদিন ১১ বল হাতে রেখে ঢাকাকে সব বিভাগে পেছনে ফেলে ৬ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে রাজশাহী। মূলত সামিট প্যাটেলের অলরাউন্ডিং নৈপুণ্যে তারা সহজে জেতে।

১৩৯ রানের লক্ষ্যে নেমে রাজশাহী ধীরস্থির শুরু করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত মুমিনুল হক ব্যক্তিগত ৯ রানে রান আউট হন। সমান রানে রনি তালুকদার সাকিবের বলে আউট হলে রাজশাহীর ইনিংসে কিছুটা ছন্দপতন ঘটে।

যদিও দুই উইকেট হারালেও সেটা রাজশাহীর রানরেটে প্রভাব ফেলেনি। সাব্বির রহমান ও উমর আকমল মিলে তৃতীয় উইকেটে ৩৮ রানের জুটি গড়েন। উমর আকমল ব্যক্তিগত ২৭ রানে আবু জায়েদের বলে সাকিবকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলে ক্রিজে নামেন সামিট। বল হাতে দারুন নৈপুণ্য দেখানোর পর ব্যাট হাতে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন তিনি, ২৫ বলে ৬ চার ও এক ছয়ে ৪৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন তিনি। চতুর্থ উইকেটে সাব্বিরকে সঙ্গে নিয়ে জুটি গড়েছেন ৭৩ রানের। তাতেই ম্যাচটি চলে আসে রাজশাহীর হাতে। জয়ের জন্য দুই রান দূরে থাকতে সাব্বির আউট হলে এক বলের জন্য ক্রিজে নামেন রাজশাহীর অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। মাত্র ১ বল খেললেও ব্যক্তিগত রানের খাতা তাকে খুলতে হয়নি, কারণ মোহাম্মদ শহীদের ওয়াইড বলে আসে জয়সূচক একটি রান।

ঢাকার বোলারদের মধ্যে সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ শহীদ ও আবু জায়েদ প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ঢাকা ডায়নামাইটস নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রান সংগ্রহ করে। শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ঢাকা। দলের ৪৩ রানের মধ্যে সামিট ও মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে তাদের প্রথম চার ব্যাটসম্যানই সাজঘরে ফিরে যান।

মেহেদী মারুফ ও কুমার সাঙ্গাকারা মিলে সতর্ক শুরু করেছিলেন। যদিও দলীয় ১৩ রানের মাথায় মিরাজ ক্লিন বোল্ড করে সাজঘরের পথ দেখান অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান সাঙ্গাকারাকে। মিরাজের বলটি স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ব্যক্তিগত ২ রানের মাথায় আউট হন লঙ্কান এই গ্রেট। এরপর মেহেদী মারুফ ও জয়াবর্ধনে মিলে ৩০ রানের কার্যকরী জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন।

কিন্তু সামিট একই ওভারে জয়াবর্ধনে ও মেহেদী মারুফকে বিদায় করে দিলে ম্যাচটি আবারও হেলে পড়ে রাজশাহীর দিকে। দলীয় ৪৩ রানে ফরহাদ রেজার হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন জয়াবর্ধনে (১১)। দুই বল পরে আবারও আঘাত হানেন সামিট। এবার তার শিকার মেহেদী মারুফ (২৫)।

৪৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ঢাকা যখন খাদের কিনারায়, তখনই ত্রাতার ভূমিকাতে আসেন তরুণ অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন। তার ৪৬ বলে ৫৯ রানেই মূলত ১৩৮ রানের দলীয় সংগ্রহ দাঁড় করায়। মোসাদ্দেক এই রান করতে ৬টি চার ছাড়াও একটি ছয় মারেন।

পঞ্চম উইকেটে রবি বোপারার সঙ্গে ৫৪ রান এবং ৬ষ্ঠ উইকেটে ডোয়াইন ব্রাভোর সঙ্গে ৪১ রানের জুটি গড়েন ঢাকার মিডল অর্ডার এই ব্যাটসম্যান। সামির বলে পয়েন্টর ওপর দিয়ে বিশাল এক ছক্কা মারেন মোসাদ্দেক, যা্ এককথায় দৃষ্টিনন্দন ছিল। সবমিলিয়ে মিরপুরের ২২ গজে মোসাদ্দেক দারুণ সব শট খেলে দর্শকদের বিমোহিত করেছেন। তার ৫৯ রানেই মূলত রাজশাহী কিংসকে ১৩৯ রানের টার্গেট দিতে সক্ষম হয়েছে ঢাকা।

রাজশাহী কিংসের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মিরাজ ও সামিট। এছাড়া আবুল হাসান রাজু নিয়েছেন একটি উইকেট।

LEAVE A REPLY