ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লায় ৩ দুর্ঘটনা

92

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাস সংলগ্ন আমতলী ও ঝাগুরঝুলি এলাকায় বুধবার সকালে পৃথক ৩টি দুর্ঘটনা ঘটে। এর একটি ছিল বুধবার বিকেলে ঝাগুরঝুলি এলাকায় চক্ষু হাসপাতালের সামনে এসময় প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ২জন আহত হয়। স্কুল শিক্ষার্থীদের বহন করা মাইক্রোবাসের সাথে অন্য একটি মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে অপর দুর্ঘটনা ঘটে। আরেকটি ছিল মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ ট্রাক্টর ও ব্যাটারী চালিত ৩ চাকার যান রিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষ। খবর পেয়ে দ্রুত হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বাহন ৫টিকে সরিয়ে ময়নামতি হাইওয়ে থানায় নিয়ে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক সুত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ময়নামতি সেনানিবাস সংলগ্ন কুমিল্লা সদর উপজেলার দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের আমতলী এলাকায় ফোরলেনের ঢাকাগামী অংশে বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় স্থানীয় আসলাম খান স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের বহন করা মাইক্রোবাস উল্টোপথে চালিয়ে আসার পথে ঢাকাগামী অপর একটি মাইক্রোবাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ৪ জন শিশু শিক্ষার্থীছাড়াও দু’চালক আহত হয়। ঘটনার পর স্কুল শিক্ষার্থীদের বহন করা গাড়ির চালক পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করে ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দু’টিকে জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

এদিকে মহাসড়কের একই এলাকায় কুমিল্লাগামী অংশে প্রায় একই সময় কুমিল্লাগামী একটি মাটি পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্রাক্টরের সাথে ময়নামতি সেনানিবাসগামী একটি ব্যাটারীচালিত রিক্সা উল্টোপথে আসার সময় মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাক্টরের চালক, রিক্সার চালক ও দু’আরোহী গুরুতর আহত হয়।

খবর পেয়ে ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে দুর্ঘটনাকবলিত বাহন দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় ময়নামতি সেনানিবাস এলাকায় ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালে। আহতদের মধ্যে ট্রাক্টর চালক বুড়িচংয়ের ময়নামতি ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামের রেনু মিয়ার পুত্র রুবেল মিয়া (২৫) ও রিক্সা চালক একই উপজেলার ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের সৌন্দ্রম বাদশা মিয়ার বাড়ির শহিদুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ আলী (২৬)’র নাম জানা গেলেও যাত্রী দু’জরের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল সুত্র জানায়, মহাসড়কে ৩ চাকার বাহন রিক্সা ও জমি চাষের ট্রাক্টর চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে এই আদেশ দেশের প্রধান ও ব্যবস্ততম জাতীয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে মানা হচ্ছে না।
ফলে প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শত শত মাটি বোঝাই ট্রাক্টর অবাধে চলছে । একই অবস্থা ব্যাটারী চালিত ৩ চাকার বাহন রিক্সার।

সুত্র জানায়, মহাসড়কের কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাস থেকে আলেখারচর পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার দুরত্বে ইউটার্ণ হওয়ায় আমতলী এলাকায় গোমতী নদী থেকে মাটি পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্রাক্টরগুলো উল্টোপথে চলছে। রিক্সাগুলোরও একই অবস্থা। এছাড়াও অন্যান্য যানবাহনও চলছে প্রতিদিন উল্টোপথে ময়নামতি হাইওয়ে থানার সামনে দিয়ে। নিয়মবহির্ভূতভাবে এসকল বাহন চলাচল করলেও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করছে। জাতীয় প্রধান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের মাইলের পর মাইলজুড়ে ট্রাক্টরে করে ঢাকনাবিহীন অবাধে মাটি বা বালু পরিবহন করায় মহাসড়কের দৃশ্যও বদলে গেছে। মহাসড়কজুড়ে কেবল মাটি আর বালু’র স্তুপ জমে আছে।

এছাড়াও মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন অসংখ্য গাড়ি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। অদক্ষ চালকদের পরিচালনায় ওইসব গাড়িতে যাতায়াত করছে অসংখ্য মানুষ। বিআরটিএ’র নিরবতার এক্ষেত্রে প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছে। দায়িত্বশীল জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে নিষিদ্ধ,ফিটনেসবিহীন যানচলাচল বন্ধে বিআরটিএসহ জেলা প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে। পুলিশ এক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারে।

LEAVE A REPLY