তাওবা : গুনাহ মাফের পূর্বশর্ত

346

‘আমি গুনাহগার বলেই তুমি গাফফার।
আমি নাফরমান বলেই তুমি রহমান।’

এ ফরিয়াদ প্রত্যেক মুমিনের প্রতিদিনের। পৃথিবীতে মানুষ ইচ্ছা-অনিচ্ছায় কোনো না কোনো ভুলত্রুটি ও গুনাহের সাথে সংশ্লিষ্ট। ভুল করা মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি। রাসূল সা: বলেন, ‘তোমাদের দ্বারা যদি কোনো গুনাহ না হতো তবে তোমাদের পরিবর্তে আল্লাহ এমন এক জাতি সৃষ্টি করতেন, যারা গুনাহ করত এবং তাওবাও করত।’ (মুসনাদে আহমদ : ২৯০৩)।
গুনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা করা যেমন মুমিনদের পরিচায়ক, তেমনি তাওবা করাও মুমিনদের অনন্য বৈশিষ্ট্য। চাই তা সগিরা (ছোট) গুনাহ বা কবিরা (বড়) গুনাহ। রাসূল সা: বলেন, ‘কোনো বান্দা যদি সগিরা গুনাহ করে অনুতপ্ত না হয় এবং তাওবা না করে তবে তা আল্লাহর কাছে কবিরা গুনাহ বলে বিবেচিত হয়। পক্ষান্তরে কেউ কবিরা গুনাহ করেও যদি অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করে তবে তা আল্লাহর কাছে সগিরা গুনাহ বলে গণ্য হয় এবং তিনি তা ক্ষমা করে দেন।’ (তিরমিজি : ১৮৭১)।
গুনাহ করা যেমন বান্দার স্বাভাব, তেমনি গুনাহ মাফ করাও আল্লাহর স্বভাব এবং বিশেষ গুণ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে তাকওয়ার নীতি অবলম্বন করে, তার গুনাহগুলো মিটিয়ে দেয়া হবে এবং তার প্রতিদানকে বহু গুণে বৃদ্ধি করা হবে।’ (সূরা তালাক : ৫)।
গুনাহ চার প্রকার। দুই প্রকার ক্ষমা করা হয়, বাকি দুই প্রকার ক্ষমা করা হয় না।
১. যে গুনাহ বান্দার অনিচ্ছায় হয়ে যায় তা ক্ষমা করা হয় এবং আজাব দেয়া হয় না, নিয়ামতও বন্ধ করা হয় না। (সূরা আহজাব : ৫)। ২. বান্দা কবিরা গুনাহ করার পর অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করলে আল্লাহ তা ক্ষমা করেন এবং তার পদমর্যাদা বৃদ্ধি করেন। (সূরা আলে ইমরান : ১৩৫)। ৩. বান্দা গুনাহ করার পর যদি অনুতপ্ত না হয় বা তাওবা না করে তাকে তুচ্ছ মনে করে, তবে তার গুনাহ তাওবা না করা পর্যন্ত ক্ষমা করা হয় না। ৪. যে ব্যক্তির কাছে পাপের কাজ পাপের বলে মনে হয় না এবং তা স্বাভাবিক মনে করে এ প্রকার গুনাহ ক্ষমা করা হয় না। এসব লোকই জাতির সবচেয়ে হতভাগ্য, যাদের আমল তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়। (ইবনে আবু দুনিয়া, আত-তাওবা : খ. ১,পৃ.৫৫)।
তবে কেউ যদি পরবর্তী সময়ে তার পাপের ব্যাপারে অনুতপ্ত হয় এবং খালেস তাওবা করে সংশ্লিষ্ট পাপ থেকে বিরত থাকে, তাহলে তাকে ক্ষমা করা হবে। কারণ আল্লাহ পাক নিরাশ হতে নিষেধ করেছেন। (সূরা জুমার : ৫৩)।
এ তাওবা করতে হবে মৃত্যুযন্ত্রণা শুরু হওয়ার আগেই। কারণ এ মুহূর্তে মানুষের ঈমান আনা ও তাওবা করাতে কোনো লাভ নেই। (সূরা মুমিন : ১০০)।
মুমিন ও মুনাফিকের গুনাহের মধ্যে পার্থক্য হালো মুমিন গুনাহকে পাহাড়সম বোঝা মনে করে আর মুনাফিক তাকে খুবই তুচ্ছ ও স্বাভাবিক মনে করে। (ইবনে আবু দুনিয়া,আত-তাওবা : খ. ১ পৃ. ৩৯)।
তাওবার দরজা কিয়ামতের নিদর্শন, পশ্চিমাকাশে সূর্য উদয় হওয়ার আগ পর্যন্ত খোলা রয়েছে এবং আল্লাহ পাক বান্দাকে ক্ষমা করবেন। কিন্তু তাওবার রয়েছে তিনটি শর্ত।
১. কৃতকর্মের অনুশোচনা করা। ২. ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট গুনাহ না করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া। ৩. আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
তবে যদি তা ব্যক্তির সাথে সম্পৃক্ত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হক আদায় করতে হবে অথবা ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে।

LEAVE A REPLY