তালতলীতে মৃত্যুর ৩ দিন পর সিডর ম্যান খ্যাত জয়দেব দত্তের লাশ উদ্ধার

124

আব্দুল্লাহ আল নোমান, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি ।
সিডর ম্যান হিসেবে খ্যাত তালতলী উপজেলার সিপিপি ইউনিট টিম লিডার জয়দেব কুমার দত্তের (৬০) লাশ মৃত্যুর ৩দিন পর শনিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে উপজেলা রেড ক্রিসেন্ট এর ওয়ারলেস অফিস থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় ওই অফিসের টেবিলের উপরে জয়দেবের মোবাইল, নিজ হাতের লেখা একটি চিঠি ও টেবিলের নীচ থেকে দু’টি কীটনাশকের বোতল উদ্ধার করা হয়। তিনি পারিবারিক
অশান্তির কারনে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশের ধারনা।

এলঅকাবাসী এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তালতলী উপজেলার স্কুল সড়কে বসবাসরত জয়দেব দত্ত ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি’র ভিএইচএফ (ভলেনটারি হাই ফ্রিকোয়েন্সি) এর ওয়ারলেস অপারেটরের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। কয়েক বছর ধরে তার স্ত্রী ও দুই ছেলের সাথে তার কোন সুসম্পর্ক ছিলনা।

তালতলী থানার এসআই সাইদুল ইসলাম জানান, বড়বগী ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর মিঞার মাধ্যমে খবর পেয়ে উপজেলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি’র ভিএইচএফ এর ওয়ারলেস অফিসের তৃতীয় তলা থেকে একটি কক্ষের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে চেয়ারসহ পরে থাকা বাবু জয়দেব কুমার দত্ত্বের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় পারিবারিক অশান্তির ব্যাপারে নিজের হাতের লেখা একটি চিঠি ও দু’টি কীটনাশকের বোতল উদ্ধার করা হয়। তিনি ৩দিন আগে বৃহস্পতিবার দিনের যে কোন সময় অফিসের ভিতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে পুলিশের ধারনা।

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডরে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানার পূর্বে জীবনের ঝূঁকি নিয়ে ১০ নম্বর মহা বিপদ সংকেতে প্রচার করে উপকূলের মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করায় বাবু জয়দেব কুমার দত্তকে স্থানীয় সাধারন মানুষ সিডরম্যান হিসেবে ডাকত। এ থেকেই সিডর ম্যানের ক্ষ্যাতি অর্জন করেন জয়দেব দত্ত।

২০০৮ সালে তিনি হানিফ সংকেতের উপস্থাপনায় জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে অংশগ্রহন করায় তার সিডর ম্যানের ক্ষ্যাতি সারাদেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। এ থেকেই তিনি সবার কাছে সিডর ম্যান জয়দেব নামে
পরিচিতি অর্জন করে।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমলেশ চন্দ্র হালদার জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনার মর্গে পাঠানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY