দুঃসময়ে হাল ধরে রেখেছি আশা করছি দল আগামী নির্বাচনে আমাকে মূল্যায়ন করবে : কামরুল হুদা

184

কুমিল্লা-১১ আসনে (চৌদ্দগ্রাম উপজেলা) নির্বাচনী আবহ বিরাজ করছে।বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা যাচ্ছেন সভা-সমাবেশ ও ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠানে। প্রার্থীদের ছবি সংবলিত পোস্টার-ব্যানারও শোভা পাচ্ছে সংসদীয় এলাকার মোড়ে মোড়ে। অনেকে প্রচারে ব্যবহার করছেন ফেসবুক এবং মোবাইল এসএমএস।ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দু’পাশজুড়ে অবস্থিত আসনটি নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ।এ আসনে আ’লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী ও কুমিল্লা জেলা আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক ও তিনবারের এমপি রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব।আগামী নির্বাচনেও তিনি দলের শক্ত প্রার্থী। জনপ্রিয়তা ও প্রচারে তিনি এগিয়ে রয়েছেন। হামলা-মামলায় ব্যতিব্যস্ত বিএনপি একক প্রার্থী নিয়ে কৌশলে মাঠে রয়েছে। এছাড়া ২০ দলীয় জোটের অপর শরিক দল থেকেও একজন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। সাংগঠনিকভাবে মজবুত জাতীয় পার্টি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তৎপর হয়ে উঠেছে।

নানা কারণে চাপের মুখে থাকা বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে পুনরুদ্ধার করতে চাইছে। এ লক্ষ্যে বিএনপির কামরুল হুদাকে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে দেখা যাচ্ছে। প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারে দেখা না গেলেও কৌশলে ভোটের মাঠে রয়েছেন কামরুল হুদা, চালাচ্ছেন প্রচার প্রচারণাও। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী এ নেতা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও শিল্পপতি। ২০১৪ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রলবোমা হামলায় ৮ বাস যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় আসামি হিসেবে কামরুল হুদা প্রায় ৮ মাস কারাভোগ করেন। এ মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাকে আসামি করা হয়েছে। কামরুল হুদার নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি এখন সুসংগঠিত।

আগামী নির্বাচন নিয়ে কথা হয় বিএনপির কামরুল হুদার সঙ্গে। তিনি বলেন, দুঃসময়ে দলের হাল ধরে রেখেছি, অনেক মামলা-হামলা, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। নানা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে আমি দলকে সংগঠিত করতে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছি। আশা করছি দল আগামী নির্বাচনে আমাকে মূল্যায়ন করবে।

নব্বইয়ের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ১৯৯১ সালে এমপি হন পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির কাজী জাফর আহমেদ। ১৯৯৬ সালে আসনটি আ’লীগের দখলে যায় এবং এমপি হন মুজিবুল হক। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী জামায়াত নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এমপি হন। পরের দু’দফায় ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন মুজিবুল হক। তার হাত ধরেই জাতীয় পার্টি ও বিএনপি-জামায়াতের ঘাঁটি পরিণত হয় আ’লীগের ঘাঁটিতে। ৯৬ ও ২০০৮ সালে এমপি হওয়ার পর জাতীয় সংসদের হুইপ হন মুজিবুল হক। পরে তিনি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নাম আলোচনায় রয়েছে। বেশ কিছু মামলার আসামি হওয়ায় ডা. তাহের এখন আত্মগোপনে রয়েছেন।

এ আসনে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ করছেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এইচএনএম সফিকুর রহমান এবং ২০ দলের শরিক জাতীয় পার্টির (জাফর) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদের মেয়ে কাজী জয়া আহমেদ। এ দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী নিজ নিজ জোট থেকে আসন বাগিয়ে নিতে দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সফিকুর রহমানের হাত ধরে এ উপজেলায় জাতীয় পার্টি এবং দলের সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও তিনি দলকে সংগঠিত করে কৌশলে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। জোটগত নির্বাচন হলে তিনি আগামী নির্বাচনে আসন ভাগাভাগিতে মহাজোট থেকে প্রার্থী হবেন এমনটাই জানিয়েছেন তার কর্মী-সমর্থকরা। জানতে চাইলে সফিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমার নেতৃত্বে চৌদ্দগ্রামে জাতীয় পার্টি খুবই শক্তিশালী। আগামী নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে এ আসনে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলে আসনটি দলকে উপহার দিতে পারব।

LEAVE A REPLY