দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে গালফ ফুড মেলা- ১৮ই ফেব্রুয়ারী হইতে ২২শে ফেব্রুয়ারী

81

সংয়ুক্ত আরব আমিরাত প্রতিনিধি:
সংযুক্ত আরব আমিরাতে আগামী ১৮ই ফেব্রুয়ারী হইতে ২২শে ফেব্রুয়ারী ২০১৮ তারিখে দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিতব্য গালফ ফুড মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে দুবাইস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অদ্য ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ তারিখ বেলা ১১ টায় একটি প্রেস ব্রিফিং-এর আয়োজন করে।

প্রেস ব্রিফিং-এ মেলায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশী কোম্পানীসমূহের প্রতিনিধিগণ, স্থানীয় বাংলাদেশী ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং কনস্যুলেটের কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন। কমার্শিয়াল কাউন্সেলর ড. এ, কে, এম, রফিক আহাম্মদ-এর সঞ্চালনায় কনসাল জেনারেল এস. বদিরুজ্জামান প্রেস ব্রিফিং করেন। কমার্শিয়াল কাউন্সেলর ড. এ, কে, এম, রফিক আহাম্মদ জানান যে, মেলাটি মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের সর্ববৃহৎ এবং অত্যন্ত প্রসিদ্ধ একটি খাদ্য প্রদর্শনী। এ প্রদর্শনীতে পৃথিবীর প্রায় ১৫০ টির ও বেশী দেশের ক্রেতার সমাগম হয়ে থাকে। বাংলাদেশ অনেক বছর যাবৎ নিয়মিত ভাবে এ মেলায় অংশগ্রহন করে আসছে।

এ বছরের মেলায় বাংলাদেশ অনেক বড় পরিসরে ৪২ টি কোম্পানী নিয়ে ৩১৮ বর্গমিটার আয়োতনের সুসজ্জিত প্যাভিলিয়নের মাধ্যমে অংশগ্রহন করছে। বাংলাদেশী অংশগ্রহণকারী কোম্পানীসমূহের মধ্যে অত্যন্ত স্বনামধন্য খাদ্য রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠানসমূহ রয়েছে। এ সকল কোম্পানীসমূহ বর্তমানে এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকার ১২০ টিরও বেশী দেশে বাংলাদেশ থেকে খাদ্যপণ্য রপ্তানী করে থাকে। কমার্শিয়াল কাউন্সেলর আরো জানান, বাংলাদেশ সরকার ২০২১ সাল নাগাদ ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০৪১ সাল নাগাদ ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খাদ্যপণ্য রপ্তানীর লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানীর প্রবৃদ্ধির হার ২৬%। মেলায় অংশগ্রহণ বাংলাদেশের খাদ্য পণ্য রপ্তানীর বাজার সম্প্রসারণসহ রপ্তানী বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল এস. বদিরুজ্জামান বাংলাদেশের কৃষি শিল্পের বিকাশ, উৎকর্ষতা এবং খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্নতা অর্জনের বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ খাদ্যশস্য, মৎস ও শাক-সবজী উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিরল সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্য সয়ং সম্পূর্ন এবং প্রায় ৪ কোটি মেট্রিকটন খাদ্য শস্য উৎপাদন করছে। এছাড়া, মৎস্য ও শাক-সবজী উৎপাদনের ক্ষেত্রে সমগ্র পৃথিবীতে বাংলাদেশের অবস্থান যথাক্রমে ৪র্থ ও ৫ম। বাংলাদেশের স্থানীয় গবেষনালব্দ জ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এছাড়া, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পলিসি সাপোর্ট এবং প্রনোদনা বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখছে। বাংলাদেশের শুকনো খাদ্য পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য পণ্য, হিমায়িত মাছ, চিংড়ী ও লবস্টার, সবজী, সেরিয়াল, মশলা, ফলের জুস, কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংক ইত্যাদি খাদ্যপণ্যের ব্যাপক চাহিদা বিশ্বজুড়ে রয়েছে।

গালফ ফুড মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী কোম্পানীসমূহ অত্যন্ত উচ্চমান সম্পন্ন বিভিন্ন ফলের জুস, পানীয়, স্নাক্স, চিপস, চানাচুর, মুড়ি, মশলা, কনফেকশনারী, বেকারী, কুলিনারী, নুডুলস, সেরিয়াল, চিনি, প্রক্রিয়াজাত মাংশ ইত্যাদি প্রদর্শন করবে। বাংলাদেশ রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো তথা বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক প্রণোদনা এবং দুবাইস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এর সার্বিক সহায়তার ফলে বাংলাদেশের কোম্পানীসমূহের পক্ষে দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে গালফ ফুড মেলায় অংশগ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে মর্মে তিনি জানান।

বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারীগণের ভিসা স্পন্সর করার জন্য তিনি দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। মেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন ভিজিট করার লক্ষে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাগণকে উদ্ধুদ্ধ করার জন্য তিনি স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন। পরিশেষে তিনি গালফ ফুড মেলা ২০১৮ তে বাংলাদেশের সার্থক ও ফলপ্রসু অংশগ্রহণ কামনা করেন এবং উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

LEAVE A REPLY