পটুয়াখালী কলাপাড়া শহরের নাগরিক দূর্ভোগ চরমে

34

শহিদুল আলম,পটুয়াখালী :
পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভার নাগরিক দূর্ভোগ এখন চরমে, শহরের অধিকাংশ সড়কে খানা খন্দক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংকট. সামান্য বৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ন সড়কে জলাবদ্ধতা, যত্র তত্র ময়লা আবর্জনার স্তুপ, সড়ক বাতির অভাবে চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি, অপরিচ্ছন্ন সরবরাহে ব্যর্থতা, মশার উপদ্রব বৃদ্ধি, উন্নয়ন কাজের অনিয়ম ও স্বচ্ছতার অভাবে এমন অবস্থা বলে জানালেন ভুক্তভোগীরা।

নাগরিকরা তাদের দূর্ভোগ লাঘবে পৌর মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলছেন, মেয়র মহোদয়ের দৃষ্টি দেয়া জরুরী।

সরেজমিনে জানা যায়, পৌরশহরের হাসপাতাল সড়ক, সিনিয়র মাদ্রাসা লোন্দা সড়ক, মঙ্গলসুখ-সবুজবাগ-কলেজের পেছনের সড়ক, রহমতপুর স্কুলের পেছনের হিন্দুবাড়ী সড়ক সহ শহরের অধিকাংশ সড়ক নাগরিকদের স্বাভাবিক চলাচলে দূর্ভোগের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বড় বড় খানা খঁন্দকে জমে থাকা পানিতে যানবাহনের চাকা কিংবা অসাবধানতয় পা পড়ে নাগরিকদের পরিধেয় বস্ত্রে কাঁদা-পানির আল্পনা ছড়াচ্ছে।

সিনিয়র মাদ্রাসা-বাদুরতলি সড়কের আল-হেরা মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসুল্লীদের কাঁদা-পানির আল্পনায় এখন ত্রাহি অবস্থা। মসজিদের সামনে সড়কের উপর একটি বড় খঁন্দকের সৃষ্টি হওয়ায় মোটর সাইকেল, বাইসাইকেল, রিকশা, অটো-রিকশা, ভ্যান, প্রাইভেট কার, পিক-আপ চলাচলের সময় কাঁদা-পানি ছিটকে যাচ্ছে মুসুল্লীদের শরীর সহ মসজিদের ভেতরে। এছাড়া ওই খানা-খঁন্দকের উপর পড়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। এতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের স্থানীয় মুসুল্লীরা কাউন্সিলর ও মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষন সহ অতি তারাতারি এসব রাস্তার মেরামত কাজ করার আহবান জানিয়েছেন।

স্থানীয় মুসুল্লী কামাল বিশ্বাস ও আল-হেরা মসজিদের মোয়াজ্জেম নুরুল ইসলাম জানান, ’এই সড়ক দিয়ে নামাজ পড়তে আসতে হয়। মসজিদে আসা যাওয়ার পথে কাঁদা পানি ছিটকে পরিধেয় কাপড় নষ্ট হওয়া সহ মজজিদের ভেতরে নামাজ পড়ার পরিবেশ নষ্ট হয়। তাই পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রæত সড়কটি সংস্কারের দাবী তাদের।’

নাগরিকরা তিক্ত কন্ঠে জানান, বাসা-বাড়ির প্রতিদিনের ময়লা নিয়ে এখন বিপাকে তারা। ময়লা ফেলার ডাষ্টবিন কিংবা নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় এ নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে ঝগড়া-ফ্যাসাদের সৃষ্টি হচ্ছে। রাতের শহরে সড়ক বাতি নেই, তাই আশংকা জনক হারে বাড়ছে চোরের উপদ্রব। স্বল্প বেতনভোগী ক্লিনাররা ক’বছর পর পর ড্রেন পরিস্কার করছে তা নাগরিকদের মনে নেই।

পৌর নাগরিকরা আরো জানান, সকালে গোসল করে ঘর থেকে বের না হলে পানির সংকটে দুপুরে পানির অভাবে আর গোসল করাতো দুরের কথা হাত মুখ ও ধুয়া যায় না। মশারউপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় নাগরিকদের অনেকের মুখেই শোনা যায় মশার নতুন নামকরন ’ডিজিটাল মশা’

নাম প্রকাশে অনিচ্চুক অনেকে জানান, উন্নয়ন কাজে স্বচ্ছতার অভাবে তা টেক সই হচ্ছেনা। উন্নয়ন কাজের নামে লাভবান হচ্ছে গুটি কয়েক মানুষ। অথচ সরকার যেখানে এ পৌরসভাকে দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর নগরী গড়ে তুলার কথা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক জোন করার ঘোষনা দিয়েছেন।

কলাপাড়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো: মিজানুজ্জামান জানান, পৌরসভার কর্মকর্তা- কর্মচারীরা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতার দাবীতে কর্মবিরতি পালন করছেন। তাই পানি, বিদ্যুৎ সহ সব ধরনের নাগরিক সেবা প্রদান সাময়িক ভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সরকারের কাছ থেকে দাবী আদায়ের পর থেকে সড়কে খানা খঁন্দকের সংস্কার কার্যক্রম সহ পর্যায়ক্রমে নাগরিক সেবার সকল বিষয় গুলোতে নজর দেয়া হবে।

LEAVE A REPLY