বছরের শুরুটা ভাল কাটলো না টাইগারদের!

149

রঙ টিভি ডেস্ক: না, এবারও জয়ের দেখা পেল না বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের কাছে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও একই পরিণতি বরণ করতে হলো মাশরাফি বাহিনীকে।

নখদন্তহীন বোলিং, বাজে ফিল্ডিং আর ক্যাচ মিসের মহড়ার পাশাপাশি সেই পুরনো আক্ষেপ ব্যাটিং বিপর্যয়ের খেসারত দিল টাইগাররা। টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচটি ২৭ রানে জিতে নিল স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৭ রানে শেষ হলো বাংলাদেশের ইনিংস। বিধ্বংসী ব্যাটিং করে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার জিতে নেন কোরি অ্যান্ডারসন।অনেকদিন পর ঘরের ছেলে ঘরে ফিরেছে (ফর্মে ফিরেছে) তাই তাকে নিয়মিত ওপেনার তামিম ইকবালের সাথে ওপেনিংয়ে পাঠালেন কোচ। দুজনে মিলে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করলেন। প্রথম ওভারেই স্যান্টনারের বলে দুই চার হাঁকিয়ে নিজেকে জানান দিলেন সৌম্য। নিউজিল্যন্ডের দেওয়া ১৯৫ রানের বিশাল টার্গেটকে তখন খুব বড় মনে হচ্ছিল না। কিন্তু ৪৪ রানের জুটি গড়তেই ছন্দপতন। ১৫ বলে ২৪ রানের ছোট্ট ঝড় তুলে ট্রেন্ট বোল্টের বলে গ্র্যান্ডহোমের হাতে ধরা পড়েন তামিম। এরপর আপন মেজাজে ব্যাট চালাতে থাকেন সৌম্য। একটা সময় তার সাবলীল ব্যাটিং দেখে বড় কিছুর আশা করা যাচ্ছিল। কিন্তু ২৮ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৪২ রানেই ক্যাচ তুলে দিলেন তিনি।

সৌম্যর মতো ম্যাচ উইনারের বিদায়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। একটু পর ১৬ বলে ২ চারে ১৮ রান করে উইলিয়ামসনের বলে বোল্ড হয়ে যান সাব্বির রহমান। এখানেই কার্যত ম্যাচটি হাতছাড়া হয়ে যায় বাংলাদেশের। শুধু ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কিছু করার ছিল না। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট যেতে থাকে। ব্যাক্তিগত ১৮ রানে টিম সাউদির দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ। ১২ রান করে ফিরে যান মোসাদ্দেক। শেষ ওভারে দরকার ছিল ৩৫ রান। আরও নির্দিষ্ট করে বললে ৬টি ছক্কা মারতে হতো। কিন্তু তেমন ব্যাটসম্যান ছিলেন না ক্রিজে।  সৌম্যর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪১ রান করে ২০ তম ওভারের তৃতীয় বলে ট্রেন্ট বোল্টের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন সাকিব। ১৬৭ রানেই শেষ হয় টাইগারদের ইনিংস।

এর আগে বে ওভালে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন এবং কোরি অ্যান্ডারসনের ব্যাটিং তাণ্ডবে ১৯৪ রানের পাহাড় গড়ে নিউজিল্যান্ড। যাতে বাংলাদেশের ফিল্ডারদের ক্যাচ মিসের ‘অবদান’ আছে। ৪১ রানের মধ্যে দ্রুত তিন উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ নিলেও শেষ পর্যন্ত বড় রান আটকাতে পারেনি বাংলাদেশি বোলাররা। শুরু থেকেই তেড়েফুঁড়ে ব্যাটিং শুরু করেছিল নিউজিল্যান্ড। দুই ওপেনার মিলে ৩৪ রানের জুটি গড়ে ফেলে। তখনই মঞ্চে আবির্ভাব রুবেল হোসেনের। পঞ্চম ওভারে বল করতে এসেই তুলে নেন জোড়া উইকেট। ওভারের দ্বিতীয় বলে নিশামকে (১৫) এলবিডাব্লিউ এবং শেষ বলে সৌম্য সরকারের ক্যাচে পরিণত করলেন মুনরোকে (০)।

নিজের প্রথম ওভারে বল করতে এসে প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নেন মোসাদ্দেক হোসেন। ইমরুল কায়েসের তালুবন্দি হন নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে আসা টম ব্রুস (৫)। এরপরই অ্যান্ডারসনকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন ওপেন করতে নামা কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ৪৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন উইলিয়ামসন। এই দুজনের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ১৩.৩ ওভারে ১০০ রান আসে নিউজিল্যান্ডের। ১৫তম ওভারে মাশরাফির বলে উইলিয়ামসনের সহজ ক্যাচ ছাড়েন সাকিব আল হাসান। যার মূল্য দিতে হয় পরের দুই বলে চার এবং ছক্কা দিয়ে!

এরপর সৌম্য সরকারের ৩ বলে পরপর ৩ ছক্কা হাঁকিয়ে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন অ্যান্ডারসন। ১৮তম ওভারে মাশরাফি বল করতে আসলে আবারও তাকে উইকেট বঞ্চিত করেন তামিম ইকবাল। সাকিবের পথ অনুসরণ করে খুব সহজ একটা ক্যাচ ফেলে দেন তিনি। দ্বিতীয় বলের সময় একটি ক্যাচ নিতে গিয়ে ব্যথা পান মাশরাফি। সবাইকে উদ্বিগ্ন করে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। সেই ওভারটি শেষ করেন মোসাদ্দেক। ১৯তম ওভারে আবারও রুবেল হোসেনের আঘাত। এবার কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে (৬০) সরাসরি বোল্ড করে দিয়ে তৃতীয় উইকেট শিকার করেন তিনি। এর আগেই সর্বনাশ যা হওয়ার হয়ে গেছে। চতুর্থ উইকেট জুটিতে রান এসেছে ১২৪। বেপরোয়া ব্যাটিং করা অ্যান্ডারসন অপরাজিত থাকেন ৪১ বলে ৯৪ রান করে।

LEAVE A REPLY