ভুয়া সিঃ আহ্বায়ক সেজে অপপ্রচারে লিপ্ত চৌদ্দগ্রাম বিএনপি’র একটি মহল

945
জম্ম থেকেই চৌদ্দগ্রামে যোগ্য ও জনপ্রিয় অভিভাবক শূন্যতায় ভুগতে থাকা বিএনপিতে গত ১০ বছর যাবৎ উপজেলা কমিটির বাহিরে থেকে নিরলস কাজ করে যাওয়া কামরুল হুদা’কে ২০১৭ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি জেলা কমিটি আহ্বায়ক করে চৌদ্দগ্রামের ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি সহ সকল সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনকে সাথে নিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে সূদৃড় আরো শক্তিশালি করার লক্ষ্যে চৌদ্দগ্রামের দ্বায়ীত্ব প্রদান করা হয়। প্রিয় এই নেতা কামরুল হুদাকে পেয়ে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে, গ্রামে-গঞ্জে বিএনপি’র কর্মী সমর্থকরা আশায় বুক বেঁধেছেন একদিন এই মহান নেতা জাতীয়তাবাদের পৃষ্ঠপোষক হয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মহান জাতীয় সংসদে চৌদ্দগ্রামের মাটি ও অবহেলিত জনগোষ্ঠির পক্ষে কথা বলবেন।

কামরুল হুদা যখন গণতান্ত্রিক উপায়ে চৌদ্দগ্রামে ১২১টা ওয়ার্ড ও ৯টা ইউনিয়ন কমিটি সম্পন্ন করে চৌদ্দগ্রাম বিএনপি’কে পুনঃগঠনের কাজ শুরু করেছেন তখনি তার পিছে উঠে পরে লাগে যুগযুগ ধরে চৌদ্দগ্রাম বিএনপি’কে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের একটি মহল।

অভিযোগ উঠে এসেছে এদের মধ্যে অন্যতম একজন “আবু তাহের মজুমদার‍‌‌‌‌” তিনি গত ০১/৮/১৭ইং তার ফেসবুক আইডি Abu Taher Mazumder থেকে কামরুল হুদা তথা উপজেলা বিএনপি’র বিরুদ্ধে জেলা কমিটি বরাবরে লিখিত অভিযোগের কপি আপলোড করে বিএনপি’র নেতা কর্মীদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির অপচেষ্টা শুরু করেন।

লিখিত অভিযোগ পত্রে দেখাযায়- স্বাক্ষরকারীগন শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল নেতৃবৃন্দ একেক জনে একই সাথে আহ্বায়ক কমিটি ও পুর্নাঙ্গ কমিটির একাধিক পদে রয়েছেন বলে স্বাক্ষর করেছেন। যেমন, যুগ্ন-আহ্ববায়ক ও সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ন-আহ্ববায়ক ও সহ- সভাপতি।

এব্যাপারে দলীয় গঠনতন্ত্রের ব্যাখ্যা চাইলে উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম বলেন- একই ব্যক্তি আহ্বায়ক কমিটি ও পুর্নাঙ্গ কমিটিতে থাকতে পারেনা। পুর্নাঙ্গ কমিটি হলে আহ্বায়ক কমিটি এমনিতেই বিলুপ্ত হয়ে যায়। তাছাড়া গত ১০ই ফেব্রুয়ারি ১৭ইং উপজেলা বিএনপি’র ১ম মতবিনিময় সভায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলাধীন সকল ইউনিয়ন বিএনপি’র কমিটি ভেঙে দেন বর্তমান আহ্বায়ক কামরুল হুদা। ঐ মতবিনিময় সভায় অভিযোগকারী আবু তাহের মজুমদার নিজে উপস্থিত ছিলেন। এখন তিনি সাবেক সভাপতি’কে বর্তমান সভাপতি এবং একই ব্যক্তি যুগ্ন-আহ্ববায়ক ও সাধারণ সম্পাদক এসব লিখে নিজেকে অর্বাচীন বলে জনসম্মুখে প্রকাশ করছেন।

ছাত্রদলের ইউনিয়ন সভাপতির স্বাক্ষর সম্পর্কে জানাতে চাইলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মিয়া আব্দুল্লাহ জোবায়ের বলেন- গত ৩০/৫/১৭ইং উপজেলা ছাত্রদলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলাধীন সকল ইউনিয়ন ও কলেজ কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। এর পর বিভিন্ন ইউনিয়নে ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ধাপে ধাপে করা হচ্ছে কিন্তু শ্রীপুর ইউনিয়ন কমিটি এখনো করা হয় নাই। তবে ইতিমধ্যে শ্রীপুরেও আহ্বায়ক কমিটি করা হবে। কেউ যদি এখনো নিজেকে সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় দলীয় ফোরামে তার বিরোদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা বিএনপি’তে অভিযোগ করে দলীয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী কে এই উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ন-আহ্ববায়ক আবু তাহের মজুমদার..?

সরজমিনে খোজ নিতে গেলে উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ন-আহ্ববায়ক অহিদুর রহমান মুক্তো বলেন- উপজেলা বিএনপি’র বর্তমান সিনিয়র যুগ্ন-আহ্বায়ক সাজেদুর রহমান মোল্লা হিরন। কিন্তু আবু তাহের মজুমদার কি করে সিনিয়র যুগ্ন-আহ্ববায়ক আহ্বায়ক হন আমার জানানেই। “আবু তাহের মজুমদার” নামে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপি’র বর্তমান আহ্বায়ক কমিটিতে কোন যুগ্ন-আহ্ববায়ক নেই। তবে “আবু তাহের মজুমদার” নাম কমিটিতে একজন সদস্য রয়েছেন।
ফেসবুকে আপলোড করা অভিযোগ পত্রে সিল মোহর দেখালে তিনি বলেন- তার বাড়ি বর্তমান রেলপথ মন্ত্রী’র পাশের গ্রাম। এলাকায় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের সাথে তার সখ্যতা রয়েছে। এক সময় সে বিএনপি’র ইউনিয়ন সভাপতি ছিলেন। অনেকধীন থেকে সে দলীয় কর্মকাণ্ডে থেকে বিড়ত। তাই আমরা তাকে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য করে আবার সক্রিয় করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দেশের বিরাজমান পরিস্থিতিতে দলীয় গোপন কোন সভা-সমাবেশের আয়োজন করা হলে অনুষ্ঠান আরম্ভ হওয়ার ১/২ মিনিটের মধ্যে পুলিশ সভা পন্ড করে দেয়। এরকম দুই একবার হওয়ার পর আমাদের টনক নড়ে। কি করে পুলিশ এতো দ্রুত আসে উপস্থিত হয়। নিশ্চয় কেউ আমাদের মধ্যে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে। পরে অনেক কষ্টে আমরা তাকে আইডিন্টিপাই করি এবং এই আবু তাহের মজুমদারকে সাবধান করে দেই। পরে আমরা জানতে পারি আওয়ামীলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই তিনি আমাদের সাথে একত্রিত হয়েছেন। এসব বন্ধ করতে বললে তিনি দলীয় ফোরামে আসা বন্ধ করে দেন। আর এখন ভুয়া সিল মোহর নিয়ে বিএনপি’র বিরুদ্ধে অপ্রচারে লিপ্ত মহলের সাথে একত্রিত হয়েছেন।

এলাকার বিএনপি কর্মী সমার্থকদের সাথে কথা বললে তারা বলেন-উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক জনাব কামরুল হুদার দলীয় কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্র করছেন একটি মহল যা দলীয় স্বার্থ পরিপন্থী। অন্যদলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে তারা যে ষড়যন্ত্র করছেন তা কোনদিন বাস্তবায়িত হবে না বা আমরা হতে দিবো না। আমরা আহ্বায়ক এর নলেজে সব দিয়েছি তিনি নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আশারাখি এদের বিরোদ্ধে দলীয় ফোরামে ব্যবস্থা নিবেন। না হয় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপি’র বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্রকারীদেরকে চিহ্নিত করে প্রতিহত করবো ইনশাআল্লাহ..।

LEAVE A REPLY