মাদারীপুর ধর্ষণের ঘটনায় বিচারের দাবীতে মানব বন্ধন বিক্ষোভ সমাবেশ

47

মোনাসিফ ফরাজী সজীব,মাদারীপুর॥
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার উমেদপুর গ্রামের ৬ বছরের এক শিশু ধর্ষণের মুলহোতা লম্পট পটু গুহ কে এখনো গ্রেফতার করতে না পারায় ফুঁসে উঠছে এলাকার সাধারন মানুষ। ধর্ষককে ধরার ব্যাপারে যতোই কারক্ষেপন করা হচ্ছে ততোই এলাকাবাসীর মনে নানা ধরনের প্রশ্নের উদ্রেক হচ্ছে। তবে কি ধরা পরবে না ভন্ড শিক্ষক পটু গুহ। বিচার হবে না এ ন্যাক্কার জনক ঘটনার। যদিও ধর্ষককে ধরার ব্যাপারে জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এদিকে এ ঘটনার বিচারের দাবীতে ধীরে ধীরে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকার মানুষ। খুব তাড়াতাড়ি ধর্ষককে বিচারের মুখোমুখী করা না গেলে বড় ধরনের আন্দোলন কিংবা কোন অনাকাংখিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। বুধবার সকালে পৈসাচিক এ ঘটনায় বিচার ও অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবীতে ৩ ঘন্টা বিক্ষোভ সমাবেশ এবং মানববন্ধন করেছে স্থানীয় কয়েক হাজার জনতা। এসময় পুলিশের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের গ্রেফতার ও বিচারের আশ্বাসে পরিস্থিতি কিঝুটা শান্ত হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সকালে শিবচর উপজেলার উমেদপুর এলাকায় প্রথম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন চালায় পটু গুহ নামে এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। ঘটনার দিনই শিবচর থানায় মামলা হলেও অজ্ঞাত করনে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রফতার না করে সময় ক্ষেপন করে।

স্থানীয়দের দাবী পুলিশ অভিযুক্ত পটু গুহকে আটক না করে তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। পুলিশের দায়িত্ব অবহেলার প্রতিবাদের ও পটু গুহকে গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনের আয়োজন করে স্থানীয়রা। উমেদপুর বাজারে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ অংশ গ্রহন করে।

বিক্ষোভ সমাবেশে উমেদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম কাঞ্চন মুন্সি বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রেফতার না হওয়াটা অত্যান্ত দু:খজনক। আমরা ধর্ষকের দ্রুত গ্রেফতার এবং তার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।

স্থানীয় রানা মুন্সি বলেন, আমরা শুনেছি ধর্ষক পালিয়ে ভারতে চলে গেছে। ঘটনার সময় পটু গুহ পুলিশের কাছেই ছিল। তখন তাকে গ্রেফতার না করে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে পুলিশ। মাসুদ নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমাদের সবারই মা-বোন, সন্তান রয়েছে। তার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি হওয়া উচিত । বিচার না হলে আগামীতে এধরনের ঘটনা আরো ঘটতে পারে। আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানো এঘটনার পর থেকে নিরাপদ মনে করছি না।

এব্যাপারে শিবচর সার্কেলে সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন ভুইয়া বলেন, আমার ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যেই গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। এছাড়াও পুলিশের দায়িত্বপালনে যদি কোন গাফিলতি থাকে তাহলে তদন্ত করে অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY