মেস ভাড়া পরিশোধের জন্য ছয় ছাত্রীকে জিম্মি

13

রায়হান খান, কুমিল্লা: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ৬ ছাত্রীকে মেস ভাড়া পরিশোধের জন্য তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে । মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে পরবর্তীতে ৯৯৯ এ কল করলে কোতওয়ালি থানা পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে। কলেজের পাশে জাহানারা ম্যানশন এর নিচ তলায় থাকতেন উক্ত শিক্ষার্থীরা। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসে কারণে মার্চের মাঝামাঝি তে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলে শিক্ষার্থীরা মেস ছেড়ে বাড়ি চলে যায়। এসব শিক্ষার্থীদের বেশির
ভাগ মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের সন্তান। টিউশন, গৃহশিক্ষক ও খন্ডকালীন চাকুরী
করে পড়াশুনার খরচ চালাতে হতো। কিন্তু লকডাউনের কারণে টিউশন, খন্ডকালীন
চাকুরী না থাকায় একত্রে তিন চার মাসের ভাড়া পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে
শিক্ষার্থীরা। দেশের বিভিন্ন জেলায় বাড়ির মালিক ও প্রশাসনের উদ্যোগে
শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া ৫০-৬০% মওকুফ করা হলেও ভিক্টোরিয়া কলেজ
শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেনা সেই সুযোগ।

তালাবদ্ধ থাকা শিক্ষার্থীদের একজন জানানবাড়ির নিচ তলায় ইঁদুর আর পোকা মাকড়ের উপদ্রব ছিলো বেশি। ২ দিনের জন্য বাড়িতে গেলেও সব নষ্ট করে ফেলতো। টানা লক ডাউনের কারণে ২ মাস ১৫ দিন আমরা মেসে যেতে পারিনি। সবাই অনেক টেনশনে ছিলাম আমাদের মূল সার্টিফিকেট ও বইপত্র নিয়ে। ঈদের পর মেসে যেতে চাইলেও তিনি আমাদের মেসে ডুকতে দিবেন না বলে জানান। ফলে বাড়িওয়ালার নির্দেশমত আমরা মঙ্গবার মেসে গেলে বাড়ির মালিক আমাদের তিনমাসের ভাড়ার পরিশোধ করতে বলেন। এসময় আমরা আপাদত একমাসের ভাড়া ও কিছু ভাড়া মওকুফ করতে অনুরোধ করায় আমাদের গেট আটকে দেয় এবং তিনমাসের ভাড়া না পরিশোধ করা পর্যন্ত বের হতে দিবে না বলে জানিয়ে দেয়। একই সাথে সম্পূর্ণ ভাড়া পরিশোধ করে চলতি মাসেই মেস ছেড়ে দিতে বলেন। এতে সারাদিন আটকা পড়ে না খেয়ে থাকতে হয। পরে ৯৯৯ এ কল করলে কোতয়ালী থানা পুলিশ এসে আমাদের বাড়ি পৌছার ব্যবস্থা করেন।

জানতে চাইলে জাহানারা ম্যানশনের মালিক মিসেস জাহানারা জানান, শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া দিয়ে আমার পরিবার চলে। ছাত্রীরা ভাড়া অর্ধেক পরিশোধ করতে চাইলে আমি এতে রাজি না হওয়ায় তারা আমার সাথে এমন আচরণ করে। যাদের কাছে আমি চার মাসের ভাড়া পাই তাদেরকে পুরো ভাড়া পরিশোধ করতে বলি। এসময় তিনি আটকে রাখার ঘটনা অস্বীকার করেন।

এদিকে ৯৯৯ এ কল পেয়ে কোতয়ালী থানার সাব-ইন্সপেক্টর জনাব আনোয়ার ঘটনাস্থলে
পৌছান এবং শিক্ষার্থী ও বাড়ির মালিকের মধ্যে সমঝোতা চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি
বাড়ির মালিক কে শিক্ষার্থীদের প্রতি সদয় হতে অনুরোধ জানান ও তাদের বাড়ি পৌছার
ব্যবস্থা করেন।

কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের সাথে এমন আচরণ
দুঃখজনক। মেস ভাড়া মওকুফ করতে ইতোমধ্যে আমরা জেলা প্রশাসক বরাবর পত্র
দিয়েছি। পৃথিবীব্যাপী মানুষের এই ক্রান্তিলগ্নে মানবিক ও উদার হয়ে অচিরেই আমার
দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে বাড়ির মালিক ও স্থানীয় প্রশাসন
সহযোগিতার হাত বাড়াবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছি।

LEAVE A REPLY