যারা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে পৌঁছে গেছেন অনন্য উচ্চতায়

216

শারীরিক ভাবে অক্ষম হয়েও একজন মানুষ সফল হতে পারে সেটা দেখিয়েছেন বিশ্বের এমন ১০ জন বিখ্যাত মানুষ রয়েছেন যাদের কাছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যা তারা অনায়াসেই জয় করেছেন।যারা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে পৌঁছে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। কর্মই তাদের গোটা বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিয়েছে খুব সহজে।

স্টিফেন হকিং : বিখ্যাত এই পদার্থ বিজ্ঞানী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হন। ২১ বছর বয়সেই তিনি অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস (এএলএস)-এ আক্রান্ত হন। ফলে তিনি কথা বলা ও চলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।

জন ন্যাস: যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা গণিতবিদ। গেলো বছর পরপারে পাড়ি জমান বিখ্যাত এ গণিতজ্ঞ। তিনি প্যারানয়েড স্রিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হন। এই রোগে মস্তিষ্কের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। চিন্তাশক্তি হারিয়ে ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও ন্যাস গণিত নিয়ে নতুন নতুন খোঁজ চালিয়ে যান। জ্যামিতি ও ক্যালকুলাসের জন্য বিখ্যাত তিনি।

ক্রিস্টি ব্রাউন: বিখ্যাত এই আইরিশ লেখক সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত হবার পরেও হাল ছাড়েননি। লিখে গিয়েছেন। দু’হাত অসাড় থাকার কারণে পায়ে টাইপ করে বইয়ের স্ক্রিপ্ট লিখতেন। তার আত্মজীবনী ‘মাই লেফ্‌ট ফুট’ বিশ্বে সাড়া জাগানো গ্রন্থ।

ডেমোস্থিনিস: আথেন্সের এই বক্তার জন্ম খ্রিস্টপূর্ব ৩৮৪-তে। তার বাণী শোনার জন্য লোক ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতেন। তার বাণী ছিল অনুপ্রেরণার। এই মহান বক্তা কিন্তু তোতলা ছিলেন। সেই প্রতিবন্ধকতা পেরিয়েই তিনি নিজেকে বিশ্বখ্যাত করেছিলেন।

ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ: বিশ্বখ্যাত এই চিত্রশিল্পী মানসিক অবসাদের শিকার হয়েছিলেন। তারপরেও তার হাত থেকে রত্ন চিত্র বেরিয়ে এসেছে একের পর এক।

ফ্রিডা কাহলো: নিজের ছবি আঁকাতে অন্যতম সেরা এই চিত্রকর। অন্যের নয় নিজের ছবি আঁকতেই বেশি ভালবাসতেন তিনি। মহান এ চিত্রশিল্পী পোলিও রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

হেলেন কেলার: আমেরিকার খ্যাতনামা লেখক ও সমাজসেবী। জন্ম থেকেই তিনি দৃষ্টিহীন ও বধির। কিন্তু প্রতিবন্ধকতা তাকে কখনো দমাতে পারেনি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে গিয়েছেন তার মতো মানুষদের অনুপ্রাণিত করতে। নিজের কর্মের মাধ্যমে তিনি পৌঁছে গেছেন অন্য উচ্চতায়।

মারলা রুনিয়ান: মার্কিন ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড অ্যাথলেট। বিশ্ব বিখ্যাত এ দৌড়বিদ ৩ বার ৫ হাজার মিটার চ্যাম্পিয়ন। ৯ বছর বয়সেই স্টার্গার্টস রোগে আক্রান্ত হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। তারপরেও তিনি অলিম্পিকে অংশ নেন। তিন বার ৫ হাজার মিটার চ্যাম্পিয়ন হন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে ঘরে আটকে রাখতে পারেনি। নিজ কর্মে অমর হয়ে থাকবেন সবার কাছে।

সুধা চন্দ্রন: ভারতীয় এ ধ্রুপদী নৃত্যশিল্পী সুধা চন্দ্রনের জন্ম কেরালাতে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। অস্ত্রোপচারের পর তার পা কেটে ফেলা হয়। কিন্তু দমে যাননি তিনি। অসীম মনের জোর নিয়ে কৃত্রিম পা লাগিয়ে ফের মঞ্চে ফিরে আসেন স্বমহিমায়। জয় করেন গোটা বিশ্বকে।

এসব বিখ্যাত ব্যক্তি প্রমাণ করেছেন অদম্য ইচ্ছাশক্তি মানুষকে বড় করে তোলে। শত প্রতিকূলতা পার হয়েও নিজেকে বিখ্যাত করেছেন সবার কাছে। নিজ আলোয় উজ্জল করেছেন গোটা বিশ্বকে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনো তাদের আটকে রাখতে পারেনি।

LEAVE A REPLY