শারজাহ বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির শোক সভা

353
৩রা নভেম্বর জাতীয় ৪ নেতার জেল হত্যা দিবস ও রাউজান থানা আওয়ামীলীগের সংগ্রামী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক মেয়র বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ সমাজ সেবক মরহুম শফিকুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শারজাহ বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে শোক সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তরা বলেন বাঙালি জাতির ইতিহাসে আরেক কলঙ্কিত দিন রক্তক্ষরা জেলহত্যা দিবস। স্বাধীন বাংলাদেশের যে কয়টি দিন চিরকাল কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে, তার একটি ৩ নভেম্বর। যে কয়েকটি ঘটনা বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত অর্জনের পথে বাধা তৈরি করেছে, তার মধ্যে অন্যতমটি ঘটেছিলp2 ১৯৭৫ সালের এই দিনে।
বক্তরা বলেন বাঙালী জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করতে ৪১ বছর আগে ১৯৭৫ সালের ৩ নবেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ জাতির চার মহান সন্তান, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম পরিচালক, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ ঘনিষ্ঠ সহচর, জাতীয় চার নেতা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় এমন জঘন্য, নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকান্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
p3
বক্তারা আরো বলেন আগে একই বছরের ১৫ আগস্ট হত্যা করা হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তাঁর ঘনিষ্ঠ এই চার সহকর্মীকে গ্রেফতার করে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে পাঠানো হয়ে ছিল। পরবর্তী অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্যু-পাল্টা ক্যুর রক্তাক্ত অধ্যায় মানবতার শত্রু ও বঙ্গবন্ধুর ওই একই পরাজিত শক্তির দোসর বিপথগামী কিছু সেনাসদস্য কারাগারে ঢুকে চার নেতাকে হত্যা করে। সেই থেকে প্রতিবছরের মতো এ দিনটি জেলহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। 
p4
বক্তারা আবেক জড়িত কন্ঠে বলেন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শত্রুরা সেদিন দেশমাতৃকার সেরা সন্তান এই জাতীয় চার নেতাকে শুধু গুলি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, কাপুরুষের মতো গুলিবিদ্ধ দেহকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে একাত্তরে পরাজয়ের জ্বালা মিটিয়ে ছিল। বাঙালীকে পিছিয়ে দিয়েছিল প্রগতি-সমৃদ্ধির অগ্রমিছিল থেকে। ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, স্থম্ভিত হয়ে ছিল সমগ্র বিশ্ব। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকান্ড ছিল একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা। বিশ্বাসঘাতক খুনীদের পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য আজ জাতির সামনে পরিষ্কার। মিথ্যা কুয়াশার ধূম্রজাল ছিন্ন করে আজ নতুন সূর্যের আলোকের মতো প্রকাশিত হয়েছে সত্য।
জলহত্যা দিবস উপলক্ষে চার জাতীয় নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তারা বলেন, বাঙালী জাতির ইতিহাসে জাতীয় চার নেতার অবদান চির ভাস্বর হয়ে থাকবে।
p6
শারজাহ বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে শারজাহ স্থানীয় একটি হোটেলে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আমিরাত আওয়ামীলীগের আহবায়ক প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন শারজাহ বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম।p7 শারজাহ বঙ্গবন্ধু পরিষদের আহবায়ক মোঃ শাহজাহান মিয়াজীর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ওয়াহেবুল মোস্তফার উপস্থাপনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আমিরাত আওয়ামীলীগের সদস্য সচিব প্রকৌশলী মহিউিদ্দন ইকবাল, দুবাই আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী শফিকুল ইসলাম, শারজাহ আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল আউয়াল, শারজাহ বঙ্গবন্ধুp8 পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, দুবাই আওয়ামীলীগের সিনিয়ার সহ-সভাপতি মাসুক আহম্মেদ রুমেল, আজমান আওয়ামীলীগের সভাপতি বকতিয়ার হোসেন, দুবাই আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মইনুল ইসলাম মঈন, শারজাহ আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি আমজাদ হোসেন, দুবাই আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা গোলাম কিবরীয়া ফরিদপুরী, শারজাহ বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুগ্ম সদস্য সচিব এয়ার মোহাম্মদ, যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান, জাবেদুল ইসলাম জুনায়েদ, শারজাহ আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নুর হোসেন সহ নেতা কর্মিরা।
p9
পরে ৪ নেতার জেল হত্যা দিবস ও রাউজান থানা আওয়ামীলীগের সংগ্রামী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক মেয়র বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ সমাজ সেবক মরহুম শফিকুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুতে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

LEAVE A REPLY