সংবাদ সম্মেলন করেছে মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের চার সহযোগী সংগঠন

191

মেয়াদ উত্তীর্ণ আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক রেজাউল করিম রেজার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে নবগঠিত প্রস্তাবিত কমিটির সমর্থনে সংবাদ সম্মেলন করেছে মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের চার সহযোগী সংগঠন।

৩০ নভেম্বর বুধবার রাজধানী কুয়ালালামপুরের সেন্তুলে হোটেল কারী ক্যাপালা হাউজে মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত সভাপতি মকবুল হোসেন মকুল ও সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কামালের স্বপক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করে মালয়েশিয়া যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ মালয়েশিয়া শাখা ও ছাত্রলীগের মালয়েশিয়া শাখার নেতারা। যৌথ এ সংবাদ সম্মেলনে পৃথক পৃথক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, তারা। এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন যুবলীগের আহ্বায়ক তাজকির আহমেদ ও যুগ্ম-আহ্বায়ক মনসুর আল বাশার সোহেল, শ্রমিক লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম বাবুল ও সাধারন সম্পাদক আবুল হোসেন, স্বেচ্ছাসেবকলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জালাল উদ্দিন সেলিম ও সাধারন সম্পাদক মোনায়েম খান, ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক ওয়াসিম ওয়াজেদ ও যুগ্ম-আহ্বায়ক রাসেল শিকদার । সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক রেজাউল করিম রেজার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়। অভিযোগ গুলোর মধ্যে রয়েছে, মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থেকেও রেজাউল করিম রেজা মালয়েশিয়ায় অবস্থান না করা, পূর্ণাঙ্গ কমিটি আনার নামে বাণিজ্য, নানা কারনে নেতাকর্মীদের হুমকি প্রদর্শন, ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাধাগ্রস্থ হলে দলের নেতাকর্মী ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মিদের জামাত শিবির ও বিএনপি আখ্যা দিয়ে আওয়ামী পরিবারকে বিতর্কিত করা। এসব এজেন্ডা তুলে ধরে এ আহ্বায়কের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে রেজাকে মালয়েশিয়ায় অবাঞ্চিত ঘোষণা করে সহযোগী সংগঠনের নেতারা। তারা বলেন, “মালয়েশিয়াতে স্থায়ী ভাবে বসবাস করে এমন কাউকে নের্তৃত্বে দেখতে চাই আমরা। দলের এবং সাধারণ প্রবাসীদের সহযোগীতায় যারা সবসময় সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেন তারাই মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের নের্তৃত্বে আশার যোগ্যতা রাখে।রেজাউল করিম শুধু মালয়েশিয়াতে থাকেন-ই না তাই নয় মালিন্দ এয়ার লাইন্সের একটি গুরুত্ব পূর্ণ পদে চাকরির সুবাদে বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস ও করছেন।”

এ বিষয়ে আহ্বায়ক রেজাউল করিম রেজা টেলিফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, সহযোগী সংগঠনের নেতারা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে যে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, তা ভিত্তিহীন এবং অসাংগঠনিক। জামাত-শিবির ও বিএনপি’র এজেন্ডা বাস্তবায়নে এরা এ ধরনের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।খুব শিগগির-ই পূর্ণাঙ্গ কমিটির মাধ্যমে সব বিতর্কের অবসান ঘটবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে দলীয় একটি সূত্র বলছে, বেশ কয়েক মাস যাবৎ মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগে চলছে অস্থিরতা। মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির আহ্বায়ক রেজাউল করিম রেজাকে বাদ দিয়ে নতুন মেরুকরনের লক্ষে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মকবুল হোসেন মুকুলকে সভাপতি ও অহিদুর রহমান অহিদকে সাধারন সম্পাদক করে গেলো মাসে একটি প্রস্তাবিত কমিটি গঠন করা হয় । এর কিছু দিন যেতে না যেতেই প্রস্তাবিত কমিটিতে আবারো রদবদল করা হয়। সাধারন সম্পাদক অহিদুর রহমান অহিদকে বাদ দিয়ে কামরুজ্জামান কামালকে সাধারন সম্পাদক করে প্রস্তাবিত কমিটি কেন্দ্রে জমা দেয়া হয়েছে। আর এ কমিটিকে সমর্থন জানিয়ে সুপারিশ করেছেন কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক স্বাস্হ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা: দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর এপিএস আব্দুস সোবহান গোলাপ ও যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চেীধূরী। এর পরই মকবুল হোসেন মুকুল ও কামরুজ্জামান কামালের পক্ষে বুধবার মালয়েশিয়া যুবলীগ, শ্রমিকলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মিরা এ সংবাদ সম্মেলন করেন।

LEAVE A REPLY