সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসী নারী উদ্যোক্তা জেসমিন আক্তার অর্জন করলেন সিআইপি’ সম্মাননা

266

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত প্রবাসী নারী উদ্যোক্তা জেসমিন আক্তার অর্জন করলেন বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সিআইপি’র সম্মান। শুধু আমিরাত প্রবাসী নয়, সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে ছিড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিদের পাশাপাশি সাফল্য প্রত্যাশী নারীদের উজ্জ্বল দৃষ্টান্তই হয়ে থাকবেন জেসমিন।

রবিবার বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক এ পুরস্কারে পেতে যাচ্ছেন তিনি। এর আগে গত অক্টোবরে বাংলাদেশ ব্যাংক জেসমিন আক্তারকে বেস্ট রেমিটেন্স অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করেন। সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসীদের মধ্য থেকে এবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ১২ জনকে সিআইপি হিসেবে মনোনিত করেছেন। বিভিন্ন পর্যায়ে মনোনিত সিআইপিদের মধ্যে শুধুমাত্র আরব আমিরাত থেকেই মনোনীত হয়েছেন ৬ জন। তারমধ্যে একমাত্র নারী হিসেবে সিআইপি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন জেসমিন।

জানা গেছে, কুমিল্লার ধনিয়াখোলা কালির বাজার এলাকার মোহাম্মদ শফিকুর রহমানের মেয়ে জেসমিন অাক্তার স্বামীর হাত ধরে সংসার করতে অামিরাতে পাড়ি জমান। সারাদিনই সাংসারিক ব্যস্ততায় ডুবে থাকা জেসমিনের একসময় স্বপ্ন জাগে স্বামীকে ব্যবসায় সহয়তা করার। ২০০৯ সাল থেকে শুরু হয় ব্যবসায়ী হিসেবে তার পথ চলা শুরু। এরপর এক এক করে জেসমিন অাজ ১০ টি প্রতিষ্ঠানের গর্বিত স্বত্বাধিকারিণী। পারিবারিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ব্রান্ডিং নাম হচ্ছে টকিও গ্রুপ। এই ব্রান্ডে জেসমিনের স্বামী মাহাবুব অালম মানিকের নানা দেশে প্রায় ৭২ টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মূলত ইলেক্ট্রনিক্স, পারফিউম ও কাপড়ের ব্যবসার প্রসার ঘটিয়েছেন তারা এই ব্রান্ডিং নামে।

খবর নিয়ে আরো জানা গেল, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে নারী ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা জেসমিন অাক্তার সংসারিক জীবনে ছেলে মেয়ে মানুষ করার পেছনেও যথেষ্ঠ সচেতন। বড় মেয়ে ইতিমধ্যে মালেশিয়া থেকে ডাক্তার হয়ে ইন্টারনি করছেন। বাকি ছেলে মেয়েরাও উচ্ছতর ডিগ্রী নিতে পড়াশুনা করে চলেছেন।

একান্ত অালাপচারিতায় জেসমিন অাকতার বলেন, ‘নারীরা ব্যবসা-বাণিজ্য সকলক্ষেত্রে এগিয়ে অাসা উচিত। অামি মনে করি শালীনতার মাঝে থেকেও নারীরা পুরুষের পাশাপাশি সকল ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারে। ‘

বেগম রোকেয়াসহ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের তুলনা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘নারী জাতি নিজেদের সক্ষমতা দেখিয়েছে। তারা পেরেছে। অাশা করি বাকিরাও পারবে। অামি প্রত্যাশা করি অামার দেশের নারীরা যেখানে থাকুক না কেন নিজের মেধা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে এগিয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY