৩০ ডিসেম্বর এফডিসি পরিচালক সমিতির নির্বাচন জাজ এর প্যানেল সম্পর্কে জাকির হোসেন রাজুর বক্তব্য

279

আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পরিচালক সমিতির নির্বাচন। এই নির্বাচনে এবার তিনটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দিতা করতে যাচ্ছে। এরমধ্যে আমজাদ হোসেন-জাকির হোসেন রাজু প্যানেলকে বলা হচ্ছে ‘জাজের প্যানেল’। নিজেদের কর্মকান্ড পরিচালনার স্বার্থে নাকি জাজ মাল্টিমিডিয়া এই প্যানেল দাঁড় করিয়েছে।

এ সম্পর্কে পরিচালক জাকির হোসেন রাজু খোলামেলা বক্তব্য রেখেছেন। ‘জীবন সংসারে’র নির্মাতা বলেন, ‘প্রায় ৩৩ বছর হলো আমার চলচ্চিত্র জীবন। এতো দিন তো কখনো নির্বাচন করার সাহস দেখাইনি। এখন দেখাচ্ছি কেন? কারণ ৩৩ বছর ধরে চলচ্চিত্রে আছি, যেখান থেকে জীবনের সব স্বাদ-আহ্লাদ মেটাচ্ছি, আজ সেই জায়গাটা ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে দিন দিন। এই স্থানটা রক্ষা করার জন্য কারো কোন মাথাব্যাথা নেই। একপ্রকার হাল ধরতেই এবার নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি দুই বছরেই যে, আকাশ-পাতাল পরিবর্তন এনে দিয়ে যাবো, সেটাও ঠিক নয়। শুরুটাতো করি। একজন পথ দেখালেইতো সেই পথে ভবিষ্যৎ প্রজম্ম হাঁটা শুরু করতে পারবে। এটাও হতে পারে আমি একটি পথ দেখালে নতুন নেতৃত্ব এসে এর থেকেও ভাল কিছু করবে। আমরা যদি পথই দেখাতে না পারি, তাহলে কীভাবে চলচ্চিত্রের উন্নতি হবে?’

জাকির হোসেন রাজু আরো বলেন, ‘এখন কথা উঠেছে ‘জাজকে ঠেকাও’। আমজাদ হোসেন এবং জাকির হোসেন রাজুর প্যানেল নাকি ‘জাজের প্যানেল’। আমার ভাবতে ঘৃণা হয়, যে বা যারা এসব কথা বলছেন তারাই কিন্তু আমার এবং আমজাদ সাহেবের ব্যক্তিজীবন সম্পর্কে খুব ভাল করেই জানেন। আমি আমার কথা বলতে পারি, ৩৩ বছর চলচ্চিত্র জীবনে এফডিসির গেট বা ভেতর থেকে এক টাকার কিছু বাকি খাইনি। যত্রতত্র কারো নামে উল্টা-পাল্টা কথা বলিনি। আমারও অনেক অভাব ছিল। একটানা দেড় বছর বাসা ভাড়া দিতে পারিনি। তারপরও নিজের ব্যক্তিত্ব নষ্ট করিনি।মাঝে কয়েক বছর অশ্লীলতার ছোবলে চলচ্চিত্র ধ্বংসের দিতে ধাবিত হয়েছিল। সে সময় একমাত্র পরিচালক হিসেবেই বলতে পারি আমি জাকির হোসেন রাজু ঘরে বসে দিন পার করেছি। কিন্তু অশ্লীলতার কাছে বিক্রি হয়ে যাইনি। আমারও অনেক শুভাকাঙ্খী প্রযোজক ছিল যারা আমার কষ্ট দেখে সময়ের সাথে তাল মেলাতে বলেছিল। আমি তাদেরকে বলেছি না খেয়ে রাস্তায় পড়ে মারা গেলেও নিজের সম্মান বিক্রি করবো না। সাংবাদিকরা লিখবে- অভাবের তাড়নায় বিখ্যাত চিত্রপরিচালক জাকির হোসেন রাজু আজ মারা গেলেন। ৩৩ বছর ধরে নিজের সম্মান ধরে রেখেছি। এটা নষ্ট করার আর সময় নেই। নির্বাচন নিয়ে সামান্য টাকার কাছে জাকির হোসেন রাজু বিক্রি হবে না। আমি জাজের কর্ণধার আব্দুল আজিজ সাহেবকেও বলেছি। পাস করার পর উচিত কথা বলতে আমি আপনাকেও ছাড় দেব না। তিনি আমাকে কনগ্রাচুলেশন জানিয়েছেন।

’রাজু এও বলেন, ‘আমি এখন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরেকজনের টাকা খেয়ে নির্বাচনে দাঁড়াবো? আরেকজনের কাছে বিয়ে বসবো, তাই না? যার সাথে বিয়ে বসে নির্বাচনে নেতা হবো, পাস করার পর তার বিপক্ষেওতো আমার দুটো কথা বলতে হতে পারে, তাই না? এই দুটো কথা বলার জায়গাটা রাখবো না আমি? আমার প্রযোজকদেরকে অর্থাৎ যার টাকা খেয়ে আমি ছবি বানাই তাদেরকেও উচিত কথা বলতে আমি পিছপা হইনি কখনো, এখনো হই না, আর ভবিষ্যতেও হবো না ইনশাআল্লাহ। আর এটাও সত্য যে, অভাবের তাড়নায় মানুষের স্বভাব নষ্ট হয়। ৩৩ বছর যেহেতু অভাব থাকা স্বত্তেও স্বভাব নষ্ট হয়নি, জীবনের বাকি সময়টাতেও আর হবে বলে মনে করছি না। গ্রামে একখন্ড জায়গা আছে। বাড়িতে একটি ঘর আছে। প্রয়োজন হলে গ্রামে গিয়ে জমিতে শাক-সবজি চাষ করে বাকি জীবন কাটিয়ে দেবো, কিন্তু স্বভাব নষ্ট করবো না।’মূলত পরিচালক সমিতির নির্বাচনে জাজ মাল্টিমিডিয়ার টাকা ছড়ানোর অভিযোগ উঠলে জাকির হোসেন রাজু উপরোক্ত বক্তব্য প্রদান করেন।উল্লেখ্য, জাজ-এর ব্যানারে রাজু এ পর্যন্ত ৭টি ছবি পরিচালনা করেছেন। নির্মাণাধীন রয়েছে ‘প্রেমী ও প্রেমী’

LEAVE A REPLY