সোনারগাঁয়ের মূল আকর্ষণ পানাম সিটি।

380

সোনারগাঁয়ের মূল আকর্ষণ পানাম সিটি। সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘর থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার সামনে গেলেই চোখে পড়বে অপূর্ব নির্মাণশৈলীতে তৈরী পানাম সিটি। এটি এক সময় তাঁতব্যবসায়ীদের মূল কেন্দ্র ছিল। বাংলার ঐতিহ্যবাহী মসলিন কাপড়সহ অন্যান্য তাঁতশিল্পের প্রচার-প্রসার পানাম সিটি থেকেই হয়। প্রাচীনকালে তৈরী সুরম্য অট্টালিকার দুটো গলি নিয়ে গঠিত পানাম সিটি। এখানে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য অট্টালিকা, মসজিদ, মন্দির, মঠ, ঠাকুরঘর, নাচঘর, গোসলখানা, বিচারালয়, দরবারকক্ষ, গুপ্তপথ, প্রমোদালয় ইত্যাদি। পানাম সিটিতে দেখা যায় ৪০০ বছরের পুরনো মঠবাড়ি। এর পশ্চিমে রয়েছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্য কুঠি নীল কুঠি। রয়েছে পোদ্দার বাড়িসহ নানান প্রাচীন ভবন। পানামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পক্সক্ষীরাজ খাল।
টিকিটের মূল্য ১৫ টাকা।

সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘর
সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘর

সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘর : অনুপম স্থাপত্যশৈলী ও সবুজের সমারোহের এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘর। চোখ জুড়ানো পরিবেশ ও স্থাপত্যশৈলী মুগ্ধ করার মতো। বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের এক অপূর্ব নিদর্শন লোকশিল্প জাদুঘর। এখানে জাদুঘর, সেমিনার কক্ষ, লোকজ মঞ্চ ও কারুশিল্প গ্রাম রয়েছে। জাদুঘরে মোট ১১টি গ্যালারি রয়েছে। এগুলো হলোÑ নিপুণ কাঠ খোদাই গ্যালারি, মুখোশ গ্যালারি, নৌকার মডেল গ্যালারি, আদিবাসী গ্যালারি, লোকজ বাদ্যযন্ত্র ও পোড়ামাটির নিদর্শন গ্যালারি, তামা ও কাঁসা, পিতলের তৈজসপত্র গ্যালারি, লোকজ অলঙ্কার গ্যালারি, বাঁশ, বেত, শীতলপাটি গ্যালারি, বিশেষ প্রদর্শন গ্যালারি। এ ছাড়া ১৯৯৬ সালে দু’টি গ্যালারি স্থাপন করা হয়। এর একটি কাঠের তৈরি প্রাচীন ও আধুনিককালের দ্রব্যাদি দিয়ে সাজানো হয়েছে। অন্যটি ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ি ও বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নকশিকাঁথা দিয়ে সাজানো হয়েছে। জাদুঘরে প্রায় সাড়ে চার হাজার নিদর্শন রয়েছে। এ ছাড়া লোকশিল্প জাদুঘর এলাকায় কৃত্রিম লেক রয়েছে। ভ্রমণপিপাসুরা এখানে নৌভ্রমণ করেন। ভ্রমণ খরচও হাতের নাগালে। চার-পাঁচজন ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দিয়ে নৌভ্রমণ করতে পারবেন। প্রতি বছর শীতকালে এখানে মাসব্যাপী লোকশিল্প মেলা হয়। প্রতি শুক্রবার থেকে বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকে। বৃহস্পতিবার লোকশিল্প জাদুঘর বন্ধ থাকে।
টিকিটের মূল্য ২০ টাকা।

বাংলার তাজমহল
বাংলার তাজমহল

বাংলার তাজমহল : মোগল সম্রাট শাহজাহান স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ নির্মাণ করেন তাজমহল। এটিকে ভালোবাসার অকৃত্রিম প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি ভারতের আগ্রায় অবস্থিত। তাজমহলের আদলেই সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের পেরারে তৈরি করা হয় বাংলার তাজমহল। তাজমহলকে ঘিরে মানুষের যে আগ্রহ, সেটি চিন্তা করেই বাংলার তাজমহল তৈরি করা হয়। তা ছাড়া আগ্রার তাজমহল দেখার জন্য আর্থিক সামর্থ্য অনেকেরই না থাকায় বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার আহসানুল্লাহ মনি বাংলার তাজমহল নির্মাণ করেন। এটি নির্মাণ করতে পাঁচ বছর লেগেছে এবং প্রায় ৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে। এর নির্মাণে ইতালি থেকে আমদানিকৃত মার্বেল পাথর ও বেলজিয়াম থেকে আমদানিকৃত হীরা ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৬০ কিলোগ্রাম ব্রোঞ্জ আমদানি করা হয় গম্বুজের জন্য। দক্ষ প্রকৌশলী দিয়ে তৈরি করা হয় বাংলার তাজমহল। আগ্রার তাজমহলের রূপ দেয়ার জন্য কয়েকবার আগ্রায় যেতে হয়েছে। বাংলার তাজমহলের প্রবেশমুখে ১০টি দৃষ্টিনন্দন ঝরনা রয়েছে। তাজমহলের ভেতরে রাজমনি ফিল্ম সিটি স্টুডিও রয়েছে। যে কেউ ইচ্ছে করলে সেখানে ছবি তুলতে পারবেন। এ ছাড়া তাজমহলের ভেতরে বসার জায়গা রয়েছে। সবুজের সমারোহের মাঝে তাজমহল এক অপূর্ব সৌন্দর্য বহন করে।
টিকিটের মূল্য বাংলার তাজমহল ও পিরামিডের টিকিট একত্রে ৮০ টাকা।

সোনারগাঁয়ের পিরামিড
সোনারগাঁয়ের পিরামিড

পিরামিড : পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম একটি হলো মিসরের পিরামিড। সেই পিরামিডের আদলেই তৈরি করা হয় এই পিরামিড। এটি বাংলার তাজমহলের পাশেই অবস্থিত। এই পিরামিড এক নজর দেখলে চোখ জুড়িয়ে যাবে। লাখ টাকা খরচ করে মিসরের পিরামিড দেখার যাদের সাধ্য নেই, তাদের জন্যই এই পিরামিড তৈরি করা হয়। পিরামিডের ভেতরে ঢুকলেই আলো-আঁধারি কক্ষে চোখে পড়বে মিসরের ফেরাউনের সাতটি ডামি মমি, যেগুলো সুদূর মিসর থেকে আনা হয়েছে। ভুতুড়ে কক্ষের আরেকটু সামনে গেলে চোখে পড়বে রাজা-রানীদের পোশাক, অলঙ্কার, তৈজসপত্র ও যুদ্ধে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ। পিরামিডের পাশেই রয়েছে বিশাল হলরুম। সেখানে রয়েছে সিনেমা হল। মনোমুগ্ধকর পিরামিড আপনার স্মৃতিপটে দাগ কাটবে।
এক দিনেই সোনারগাঁয়ের সব দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণ করতে পারবেন। ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় সময় বেশি লাগবে না।

যেভাবে যাবেন : গুলিস্তান থেকে বাসে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা নামবেন। সেখান থেকে অটোরিকশা যোগে লোকশিল্প জাদুঘরে যেতে পারবেন।

LEAVE A REPLY