জাতীয় নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনে বিএনপির ৪২ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রাপ্তির লবিংয়ে রয়েছেন

2168

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপি তাদের দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে তৃণমূলে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। একেকটি আসনে তিনজন করে প্রার্থী যাচাই-বাছাই করে রাখছেন। যাতে করে মামলা-গ্রেফতার জনিত কারণে প্রার্থী সংকটে পড়তে না হয়। কুমিল্লার ১১টি আসনে সম্ভাব্য ৪২ জন প্রার্থী নিজ নিজ আসনে মনোনয়ন প্রাপ্তির লবিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।

কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা): এ আসনে মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তবে এখানে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পরিবর্তে তার ছেলে নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ওবায়দুল হক ভূঁইয়া, সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা ও দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে।

কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস): এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার। এছাড়া হোমনা উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুল হক ও তিতাস উপজেলা চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন সরকারের নামও শোনা যাচ্ছে। তবে অসুস্থতার কারণে এম কে আনোয়ার নির্বাচন করতে না পারলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানান।

কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর): এ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেইন কায়কোবাদ তালিকায় প্রথমে আছেন। মামলার কারণে তিনি নির্বাচন করতে না পারলে তার (কায়কোবাদ) মামা ইঞ্জি. সৈয়দ শফিকুল ইসলাম অথবা তার ভাই ভাই কাজী মুজিবুর রহমান প্রার্থী হতে পারেন। এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের সভাপতি সভাপতি কাজী মোঃ আমির খসরু, ছাত্রদলের ৯০ দশকের ছাত্র একরামুল হক বিপ্লব, শিল্পপতি যুবদলের গোলাম কিবরিয়া।

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার): এ আসনে সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, তার স্ত্রী সাজেদা আহসান মুন্সী ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান।

কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া): এ আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাংবাদিক শওকত মাহমুদ আছেন প্রথম কাতারে। এছাড়া মনোনয়ন দৌড়ে আরো রয়েছেন কৃষক দলের নেতা এএসএম আলাউদ্দিন ভূঁইয়া ও বিএনপি নেতা জসিম উদ্দীন।

কুমিল্লা-৬ (সদর): এ আসনে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আমিন উর-রশিদ ইয়াছিনের নাম সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর সম্ভাবনাও রয়েছে। এছাড়া আছেন জেলা বিএনপি নেতা সফিকুর রহমান সফি ও ফজলুল হক ফজলু ।

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা): এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন লড়াইয়ে আছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি খোরশেদ আলম। এর পাশাপাশি ২০ দলীয় জোটের শরীক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদ।

কুমিল্লা-৮ (বরুড়া ও সদর দক্ষিণের একাংশ): এ আসনে মনোনয়ন লড়াইয়ে আছেন সাবেক এমপি ও দলের কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া তাহের সুমন, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, দলের বিশেষ সম্পাদক আবু নাসের মো. ইয়াহিয়া (শারমিন)।

কুমিল্লা-৯ (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ): এ আসনে সম্প্রতি সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) আনোয়ারুল আজিম পদত্যাগ করেছেন । তাই এ আসনে মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন সাবেক এমপি এটিএম আলমগীর, লাকসাম উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শিল্পপতি আবুল কালাম (চৈতী কালাম) ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মজির আহমদ, কেন্দ্রীয় যুবদলের যুব বিষয়ক সম্পাদক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী, মনোহরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইলিয়াছ পাটোয়ারী , কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক সফিকুর রহমান সফিক ও নিখোঁজ লাকসাম পৌরসভা বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজ পতœী শাহনাজ আক্তার বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় আছেন।

কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট উপজেলা, সদর দক্ষিণের একাংশ ও নবগঠিত লালমাই উপজেলা): এ আসনে মনোনয়ন চাইতে পারেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি আলহাজ্ব মো. মনিরুল হক চৌধুরী, সাবেক এমপি আবদুল গফুর ভূঁইয়া ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া এবং কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সদস্য শাহাবুদ্দিন আহমদ ফারুক ।

কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম): এ আসনটি ২০ দলীয় জোটের শরীক দলের জন্য সব সময় বরাদ্দ থাকে। জামায়াতের আব্দুল্লাহ মোঃ আবু তাহের অথবা জাপার কাজী জাফর এ আসনে মনোনয়ন পেয়ে থাকেন। যদি বিএনপি-জামায়াত জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করেন, তাহলে এ আসনে জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ মোঃ আবু তাহের অথবা জাপার নেতা প্রয়াত কাজী জাফর কন্যা জোটের প্রার্থী হিসেবে টিকেট পেতে পারে।
জোটগত নির্বাচন না হলে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কাজী নাছিমুল হক, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. কামরুল হুদা মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন। তবে মাঠ পর্যায়ে কামরুল হুদা এগিয়ে রয়েছেন বলে এলাকাবাসীর অভিমত।

LEAVE A REPLY