৬৫ দিনের সরকারী নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ শিকারে সমুদ্রে জেলেরা

17

শহিদুল আলম, পটুয়াখালী, 24-07-2019
ইলিশ শিকারে ৬৫ দিনের সরকারী নিষেধাজ্ঞা শেষে পটুয়াখালীর উপকূলের জেলেরা উৎসব মুখর পরিবেশে ইলিশ শিকারে গভীর সমুদ্রে যাত্রা করছেন।

প্রায় ৪০ হাজার জেলে দীর্ঘ অবরোধকালীন সময়ে সাগরে যাওয়ার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখেন আগে ভাগেই। গভীর সমুদ্রে ইলিশ শিকারের উদ্দেশ্যে বুধবার সকাল থেকে মাছধরা ট্রলার নিয়ে দলে দলে যাত্রা শুরু করেছেন জেলেরা। এতে খুশীর আমেজ বইছে আড়ৎদার,মহাজনসহ সংশ্লিষ্টদের মনে। ফিরে এসেছে প্রান চাঞ্চল্য।

মহিপুর মৎস্য বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফজলু গাজী জানান, মৌসুমের শুরুতে অবরোধের ফলে দক্ষিনের বড় মৎস্য বন্দর মহিপুর-আলীপুর এর মাছের আড়ৎ গুলো এতদিন নিস্প্রান হয়ে ছিল। বেকার, আলস, মানবেতর সময় পার করেছে মৎস্য শ্রমিকরা। এখন কর্ম চঞ্চল হয়ে উঠবে মৎস্য বন্দর। আশা করছি এবছর সাগরে প্রচুর মাছ ধরা পড়বে। মৌসুমের শুরুতে অবরোধের ফলে যে অর্থনৈতিক ক্ষতি ব্যবসায়ী সহ জেলেদের হয়েছে এর মাধ্যমে আমরা তা পুুষিয়ে নিতে পারবো বলে আশা করছি।

গভীর সমুদ্র থেকে ট্রলার ভর্তি রুপালি ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরবেন জেলেরা-এমনটাই প্রত্যাশা জেলেসহ ব্যবসায়ীদের।

আল্লাহর দান বোর্ডের মাঝি রহমান জানান, মাছ শিকার ছাড়া আর কোন পেশার অভিজ্ঞতা না থাকায় অবরোধকালীন সময়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়েছে। আমরা জেলেরা অপেক্ষায় থাকি মৌসুমে ইলিশ শিকারের মাধ্যমে পরিবারের জন্য আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যসহ সবার মুখে হাসি ফুটানোর।

আলীপুর ফিশিং ট্রলার মাঝি সমিতির সভাপতি নুরু মাঝি বলেন, সরকারের দেয়া অবরোধ মেনেছি। কিন্তু ভারতীয় জেলেরা এ অবরোধের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের জলসীমানায় প্রবেশ করে প্রচুর ইলিশ শিকার করে নিয়েছে।

এফবি বিসমিল্লাহ ট্রলারের মাঝি গোলাম মোস্তফা জানান, ’পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের সাথে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে সমুদ্রে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ সহ জেলেদের প্রনোদনা দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মনোজ কুমার সাহা বলেন, এ অবরোধের ফলে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ পরার সম্ভাবনা রয়েছে। অবরোধকালীন সময়সীমা নির্ধারনের জন্য জেলেদের দাবি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY