ছাত্রলীগের রুহুল আমিনকে ছাত্রদল ভেবে অব্যহতি

37

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ সভাপতি গাজীপুরের কৃতি সন্তান রুহুল আমিন কে ছাত্রদল ভেবে অব্যহতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। গত ১৭ ই ডিসেম্বর কোন প্রকার কারন দর্শানো ছাড়াই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত ছাত্রলীগের ওয়েবসাইড সহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তা ভাইরাল হয়ে যায়। এতে করে ছাত্রলীগের এক ত্যাগী ও কর্মী বান্ধব নেতা মোঃ রুহুল আমিনের স্বপ্ন ভেংঙ্গে চুরমার হয়। প্রকৃত ঘটনা কি! তা যাচাই বাচাই এবং সম্বনয় না করেই একটি মুজিব আর্দেশের মৃত্য ঘটলে তা কতটুকু সু-ফল আসবে আওয়ামী পরিবারের জন্য তা বিবেচ্য বিষয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মোঃ রুহুল আমিন ছাত্রদলের কাউলতিয়া ইউনিয়ন শাখার ২০০৬ সালের কমিটির যুগ্ন সম্পাদক। আর একই এলাকার মোঃ রুহুল আমিন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সভাপতি। বিষয়টি মানতে নারাজ কতিপয় বিএনপি জামায়াতের এজেন্ট আওয়ামী নামধারি কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

ছাত্রলীগের মোঃ রুহুল আমিন কে কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছে না, কর্মদক্ষতার কারণে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দুই মেয়াদের কেন্দ্রীয় নেতা। (শোভন- রাব্বানী) বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সভাপতি (অব্যহতি পাওয়ার আগে), (সোহাগ-জাকির) সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির উপ- কৃষিশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক সহ সভাপতি গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগ,সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯ তম জাতীয় সম্মেলন ২০১৮ উপলক্ষে গঠিত অর্থ উপ কমিটি, সমন্বয়ক একাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গাজীপুর ২ আসন।

ছাত্রলীগের রুহুল আমিনের অব্যহতির খবর ছড়িয়ে পড়লে গাজীপুরের আওয়ামী পরিবারের মধ্যে এক চাপা আর্তনাথ বিরাজ করছে। রাগে ক্ষোভে ফেসে উঠছে ছাত্র জনতা। খবর পেয়ে সবাইকে সান্তনার আভাস দিলেন মোঃ রুহুল আমিন। ভারাক্রান্ত মন নিয়ে, সবাইকে বিশ্বাস রাখতে বললেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অভিবাবক জননেত্রী ও দেশরত্ম শেখ হাসিনার প্রতি ও গাজীপুর আওয়ামী পরিবারের প্রতি। তার বিশ্বাস, জীবন যুদ্ধে জয় করে সবাইকে ছাত্রলীগের পতাকা তলে ঐক্যবদ্ধ করবো। সত্য ঘটনা জানাবেন ছাত্রলীগের অভিবাবক কে, নেত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।

সরেজমিনে গিয়ে আমাদের প্রতিবেদক কথা বলেন প্রকৃত ছাত্রদল নেতা মোঃ রুহুল আমিনের সাথে: কেমন আছেন জানতে চাইলে মুচকি হেসে বলেন, আমি শারীরিক ভাবে ভালো, মানসিক ভাবে ভালো নেই। কারন উল্লেখ্য করে বলেন, আমার জানামতে কোনদিন ঐ রুহুল কে বিএনপি করা বা ছাত্রদল করতে দেখিনি। আজ তার নামে নাকি ছাত্রদল করার অপরাধে অব্যহতি এসেছে। ছাত্রদল রুহুল আমিন আরো বলেন, আমার জানামতে রুহুলের নামে চক্রান্ত চলছে, ছেলেটা অনেক পরিশ্রম করে ছাত্রলীগের জন্য।

ফোনে কথা হয় ছাত্রলীগের মোঃ রুহুল আমিনের সাথে, কেমন আছেন জানতে চাইলে অপরপ্রান্ত থেকে ভেসে আসে কান্নার আওয়াজ, যেন অভিবাবক হারা এক এতিম সন্তান। আসলে হবে না কেন? হওয়ার কথা, দু- দিন আগেও মাতিয়ে তুলেছেন,গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগ সহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে। বিজয় দিবসের দিনে কমপক্ষে ২০ টি অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করে মাতিয়ে তুলেছেন তৃনমুল নেতাকর্মীদের।
অব্যহতির ব্যাপারে জানতে চাইলে পুরো ঘটনা খুলে বললেন রুহুল আমিন। পাঠকের জন্য পুরোপুরি তুলে ধরা হলো : আমার নামের সাথে মিল থাকায় কথিত রুহুল আমিন আমার জন্মস্থানের পাশ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা। সে ২০০৬ সালে ছাত্রদল সাবেক কাউলতিয়া ইউনিয়ন শাখার যুগ্ন সম্পাদক, ২০১৩ সালে একই ইউনিয়ন শাখার একই সংগঠনের সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তার পিতার নাম মোঃ নজরুল ইসলাম, গ্রামঃ সালনা, ওয়ার্ড নং ১৯, সে জীবিত, আমাদের কাউলতিয়া এলাকার আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিষয়টি অবগত। ২০০৬ সালে আমার বয়স ১৬ বছর এবং আমি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে অধ্যায়নরত এবং একই ইউনিয়ন কমিটিতে অবস্থান নেওয়ার মত যোগ্যতা ও সামর্থ্য ছিল না। চক্রান্তকারীরা আমি ছাত্রদলের সাথে সম্পৃক্ততার দলিল হিসেবে গাজীপুর সিটির সাবেক মেয়র মহোদয়ের সাথে একটি ছবি প্রকাশ করে।
প্রকৃত ঘটনা এই যে,২০০৯ সালে একটি গ্রুপ কাউলতিয়া এলাকায় বিপুল সংখ্যক জমি অবৈধভাবে দখল করে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের সাথে দলমত নির্বেশেষে বিপুল সংখ্যক জনতা প্রতিবাদ জানায়। আমাদের এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় সাবেক মেয়র ঐ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় আমার অজান্তে ঘটনার একফাকে একটি ছবিতে আমাকে দেখা যায়। আমার আত্মীয়ের জমি থাকায় এবং এলাকার সন্তান হিসেবে ঐ ঘটনার প্রতিবাদে এগিয়ে যাই। বর্তমান হিংসাত্মক কিছু ব্যক্তি আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আমাকে ছাত্রদলের কর্মী বানানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমি নির্দোষ,আমি জম্মগতভাবে আওয়ামী পরিবারের সন্তান, আমি মুজিব আর্দশ্যে বিশ্বাসী। জীবনের শুরু থেকে ছাত্রলীগ ভালোবাসি,সেই সুত্রধরে ছাত্রলীগ করি।

প্রকৃত ঘটনা উদ্ধারে তৎপর গাজীপুর আওয়ামী পরিবার।

LEAVE A REPLY