ট্রাকের চাপায় পা হারালো রনজয় রায়: স্বাভাবিকভাবে বাঁচার আকুতি

9

মাদারীপুর প্রতিনিধি
রাস্তার পাশে একটি লোকের জন্যে অপেক্ষা করছিল রনজয় রায় (৩০)। হঠাৎ পিছন থেকে বালু বোঝাই একটি ট্রাক ধাক্কা দিয়ে পায়ের উপরে উঠেয়ে দেয়। এতে ঘটনা স্থলেই একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, অন্য পায়েও মারাত্মক জখম হয়। পরে ঢাকার জাতীয় পঙ্গ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একটি পা কেটে, অন্যটি প্লাস্টার করে দেয়।

বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে মাদারীপুরের সস্তফাপুর বড় মেহের গ্রামের রনজয় রায়। স্ত্রী আর এক মাত্র মেয়েকে নিয়ে ঘোর অন্ধকার দেখছেন রনজয় রায়সহ তার পরিবার। দোষী ট্রাক চালক ও মালিকের বিচারের দাবী তার পরিবারের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৮ ফেব্রুয়ারী শনিবার সকালে মাদারীপুর শহরের কালীবাড়ী এলাকায় ‘মাঘী পূজা’ করতে মটরসাইকেলযোগে আসছিল রনজয় রায়। সকাল সাড়ে ১২টার দিকে পৌর শহরের ইটেরপুল বাজারের সামনে মটরসাইকেল পার্কিং করে রাস্তার পাশে একটা লোকের জন্যে অপেক্ষা করছিল তিনি। হঠাৎ মাদারীপুর দিকে আসা একটি বালু বোঝাই ট্রাক রনজয় রায়কে পিছন থেকে ধাক্কা দিয়ে তার পায়ের উপরে উঠিয়ে। মুর্হুতের মধ্যেই রনজয় রায়ের একটি পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন মুর্মুষ অবস্থায় উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে ওই দিনেই ঢাকার জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসরা একটি পা পুরো কেটে অন্য পায়ে প্লাস্টার করে দিয়েছে। তবে সেই পা’টিও কেটে ফেলার সম্ভবনা রয়েছে। বর্তমানে সেই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছে। এমতাবস্থায় রনজয় রায়ের স্ত্রী সমাপ্তি রায় ও এক মাত্র মেয়ে রাত্রি রায়কে নিয়ে ঘোর অন্ধকার দেখছেন তিনি। কিভাবে চিকিৎসার খচর আর পরিবারকে নিয়ে চলবে তা নিয়েই জীবনমরণ সদ্ধিক্ষণের রয়েছে রনজয় রায়।

রনজয় রায়ের স্ত্রী সমাপ্তি রায় জানান, তার স্বামী মস্তফাপুর বাজারে ‘তারক মেডিকেল কর্নার’ নামে একটি ফার্মেসীর দোকান করে চলছিল। এখন তার চিকিৎসার খচর আর সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হবে। ট্রাকটি স্থানীয়রা আটক করে সদর থানায় দিয়েছে। ট্রাকের মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার মতো অবস্থাও নেই। এখন প্রশাসন আর প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপে আমার পরিবারকে সহযোগিতার কামনা করি।

রনজয় রায়ের পিতা সনদ রায় গেলো ছয় মাস আগে মারা যায়। তার মা কল্পনা রায় আর ছোট ভাই সঞ্জয় রায় এখনো তার চিকিৎসা নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়েছে। আর্থিক অভাবের কারণে যথাযথ চিকিৎসা করানো নিয়েও শঙ্কিত তারা। তার ভাই সঞ্জয় রায় জানান, ‘আমার ভাইকেই ইচ্ছে করে ট্রাক দিয়ে চাপা দিয়েছে। শুনেছি ট্রাকের মালিক ফরিদপুরের বাসিন্দা। প্রভাবশালী হওয়ায় তার সাথে যোগাযোগ করা হয়নি। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো। আমার ভাই তো সারা জীবন পঙ্গুত্ববরণ করলো। সে তো আর দু’পায়ে দাড়িয়ে কিছু করেও চলতে পারবে না। আমরা এমন দেষী ট্রাক চালক আর মালিকের এমন বিচার চাই, যাতে আগামীতে এসমন দৃশ্য আর না দেখতে হয়।’

মামলার বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সওগাতুল আলম জানান, ‘স্থানীয় লোকজন ট্রাকটি ঘিরে রাখলে পুলিশ গিয়ে ট্রাকটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এখনো ট্রাকটি থানা হেফাজতে রয়েছে। যতি আহতের পরিবার মামলা করতে চায়, তাহলে অবশ্যই আইনগত্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

LEAVE A REPLY