সুখাইড় রাজাপুর দঃ ইউনিয়নে ২২ গ্রামে হাইস্কুল না থাকায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

10

সাইফ উল্লাহ, সুনামগঞ্জ :
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল ধর্মপাশা উপজেলা সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে হাইস্কুল না থাকায় ৭/৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করে শিক্ষার্থীরা।

সরজমিনে গিয়ে জানাযায়, কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে যাতায়াত করে বর্ষায় নৌকা, হেমান্তে পায়ে হেটে, এভাবে চলছে স্কুলে যাওয়া আসা। রবিবার সুখাইর রাজাপুর দক্ষীণ ইউনিয়নে গিয়ে জানাযায়, ইউনিয়নের অধিকাংশ ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার পরিধি প্রাথমিক শিক্ষার মধ্যেই আটকে যাচ্ছে। ধর্মপাশা উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের মধ্যে সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নটি উপজেলার পুর্বাঞ্চলে অবস্থিত।

খোজ নিয়ে জানা যায়, এ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কয়েক শতাধিক ছাএ-ছাএী প্রায় ৭/৮ কিলোমিটার দুরের ধর্মপাশা উপজেলার হাইস্কুল ও পার্শবর্তি নেত্রকোনা জেলা মোহনগঞ্জ এর বিভিন্ন হাইস্কুলে ক্লাস করতে যায়। তারা কষ্ট করে প্রায় ৭/৮ কিলোমিটার পথপায়ে হেটে কিংবা ১০০/১২০ টাকা খরচ করে অটোতে ও আসা যাওয়া করতে হয়। স্কুল পড়ুয়া কয়েকজন ছাএ-ছাএীর সাথে আলাপকালে তারা জানায়, কষ্ট হলেও তারা সুশিক্ষিত হতে চায়। তারা সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিন ইউনিয়নে একটি বিদ্যালয় স্থাপনের জোর দাবি জানায়। উপজেলা প্রায় ১৭টি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে।

গ্রামের একজন শিক্ষাবান্ধব ২ যুবক বলেন , শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হাওর পাড়ের এ অঞ্জলে একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করা খুবই প্রয়োজন।

এ ব্যপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু তাহের মোঃ কামরুল হাসান জানান, সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিন ইউনিয়নে কোন হাইস্কুল নেই এটা সত্যিকার অর্থে বেমানান, কেউ যদি বিদ্যালয় প্রতিষ্টার উদ্দ্যেগ নিয়ে আসে ,আমার এ ব্যাপারে সব রকম সহযোগিতা থাকবে।

অত্র ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার গোলাম মোস্তফা ধন মিয়া (৭৫) বলেন এই ইউনিয়নে একটি জুনিয়র স্কুল প্রতিষ্ঠিত হলেও কোন শিক্ষক না থাকায় এই জুনিয়র স্কুলটিও বন্ধ হয়ে যায় আমরা চেষ্টা করেছি মাননীয় এমপি মহোদয় যদি একটি নজর দেন তা হলে এই ইউনিয়নে হাইস্কুল হয়ে যাবে আমরা আশাবাদি।

৮নং ওয়ার্ড মেম্বার সাদেকুর রহমান (৫৫) বলেন, সারাদেশে শিক্ষার মান উন্নয়ন হলেও আমাদের এই ইউনিয়নে শিক্ষার মান প্রাথমিক শিক্ষা পর্যন্ত সিমাবদ্ধ আমরা চাই এই ইউনিয়নে একটি হাইস্কুল প্রতিষ্টিত হোক।

মো. লাল মিয়া (৬৫) বলেন, আমাদের ইউনিয়নে কোন হাই স্কুল নেই হাই স্কুল থাকলে ছেলে মেয়ে পড়ালেখা করতে পারত, বেশী খরচ হয় বিধায় ছেলে, মেয়েদের লেখা পড়া বন্ধ করে দিয়েছি।

ইউপি চেয়ারম্যান মো: আমানুর রাজা চৌঃ (৫০) জানান, এখানে বিদ্যালয় না থাকায় এই ইউনিয়নের মানুষের প্রধান সমস্যা। এখানে অন্তত একটি বিদ্যালয় থাকা খুবই জরুরি। আমি স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করি।

এব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, অব্যশই একটি মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। আওয়ামীলীগ সরকার শিক্ষা বান্ধব সরকার, এই সরকারের আমলে স্কুল, কলেজ, বিশ্ব বিদ্যালয় স্থাপন হচ্ছে। এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষ্য টেকসই উন্নয়ন হচ্ছে। গ্রাম হবে শহর ইনশাল্লাহ, উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা হবে।

LEAVE A REPLY